গঙ্গাসাগর পর্যন্ত চলবে ট্রেন, রেলমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করলেন শুভেন্দুসোমবার সাঁতরাগাছি থেকে রাজস্থানের জয়পুর পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ভিডিও কলিং-এর মাধ্যমে এই ট্রেনটির উদ্বোধন করেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। নতুন ট্রেন চালানোর জন্য রেলমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি, তাঁর কাছে একটি আর্জিও জানান CM।
কী আর্জি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী?
নিজের আর্জি জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অশ্বিনীজি আপনি কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে রামেশ্বরম পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। বাংলার জন্য আপনাকে একটা জিনিস করতেই হবে। গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেল লাইন চাই। টানেল করে নিয়ে যান বা ফ্লোডিং করে। আমাদের গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেল লাইন চাই। গঙ্গাসাগর আমাদের আস্থার জায়গা। মুড়িগঙ্গার উপর আমি ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেছি। ২০২৯ পর্যন্ত ব্রিজের কাজ হয়ে যাবে। আপনি সার্ভে টিম পাঠিয়ে গঙ্গাসাগরকে রেল মানচিত্রে জুড়ে দিন।"
মুড়িগঙ্গার ব্রিজ নিয়ে কী পরিকল্পনা?
শনিবার কাকদ্বীপে সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২৯ সালে মুড়িগঙ্গায় প্রস্তাবিত সেতুর উদ্বোধন করা হবে। শুভেন্দু বলেন, ‘আগের সরকার এই সেতু তৈরির নামে মিথ্যা কথা বলেছিল। জমি অধিগ্রহণ বা ডিপিআর (বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট) কিছুই করেনি। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, ২০২৯ সালে সেতু উদ্বোধন করব।’
কেন মুড়িগঙ্গা ব্রিজ গুরুত্বপূর্ণ?
কপিল মুনির আশ্রম রয়েছে সাগরদ্বীপে। এই দ্বীপ ভূমিকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে মুড়িগঙ্গা নদী। এখানে যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম মাধ্যম ভেসেল পরিষেবা। কিন্তু ভাঁটার সময়ে জলস্তর কমলেই বন্ধ হয়ে যায় ভেসেল চলাচল। তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা ছাড়া উপায় থাকে না যাত্রীদের। ভোগান্তিতে পড়েন মহিলা, শিশু, রোগী-সহ যাত্রীরা। এই মুড়িগঙ্গার উপরে সেতু নির্মাণ হলে উপকৃত হবেন বহু মানুষ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বারেবারে এই ব্রিজ নিয়ে সাগরবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও কাজের কাজ হয়নি। এবার শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, ২০২৯ সালে উদ্বোধন হবে এই ব্রিজের। অর্থাৎ তার আগেই কাজ শেষ হবে মুড়ি গঙ্গা ব্রিজের।