নিপা ভাইরাসের আপডেটনিপায় আক্রান্ত দুই নার্সের মধ্যে একজনের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। যদিও অপর নার্সের অবস্থা এখনও অতি সংকটজনক। ঠিক এমনটাই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক।
এই আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, 'পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে ভালর দিকে যাচ্ছে। তবে মহিলা নার্সের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। দুই জনকেই আইসিসিইউ-তে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এই দুই নার্সের সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্য, পরিচিত বা স্বাস্থ্যকর্মীদের শরীরে এখনও নিপা ভাইরাস পাওয়া যায়নি।
মাথায় রাখতে হবে, ইতিমধ্যেই ২ নার্স নিপায় আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক হাইজ স্টাফের মধ্যেও নিপার লক্ষণ দেখা গিয়েছে বলে খবর। আর তাঁদের চিকিৎসা চলছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে।
কতজনের নিপা ধরা পড়েছে?
স্বাস্থ্য দফতরের সেই আধিকারিক পিটিআই-কে জানান, বর্তমানে মোট ২ জন নিপা আক্রান্ত বাংলায় রয়েছেন। আমাদের পক্ষ থেকে নজর রাখা হচ্ছে। যাঁরাই এই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁদের দিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। তাঁদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।'
আর এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত চিন্তা করতে বারণ করছে বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সতর্ক থাকতে হবে, আতঙ্কিত নয়।
এরই মাঝে স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে নিপা নিয়ে একটা গাইডলাইন আনা হয়েছে। তাতে রয়েছে একাধিক নির্দেশ।
গাইডলাইনে কী বলা হয়েছে?
১. নিপা সন্দেহ হলে ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। সেখানে ২ বার তাঁর পরীক্ষা করা হবে।
২. নিপায় আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে ২৯ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
৩. নিপার চিকিৎসায় যুক্ত ডাক্তার ও চিকিৎসকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. দ্রুত করতে হবে আরটিপিসিআর টেস্ট।
৫. স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে সুরক্ষিত থাকেন, সেটা নিশ্চিত করতে বিশেষ অ্যান্টাভাইরাল ওষুধ খেতে বলা হয়েছে।
৬. নিপা পজিটিভ হলেই ৫ দিন অন্তর টেস্ট।
৭. রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও ৯০ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
রোগ প্রতিরোধে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা এই রোগ প্রতিরোধের একাধিক রাস্তা দেখিয়েছেন। যেমন ধরুন-
১. এই সময় বাদুড়ের সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না
২.কামড়ের দাগ থাকা ফল খাবেন না
৩. খেজুরের রস এড়িয়ে যান
৪. শূকরের মাংস চলবে না এবং এর সংস্পর্শও এড়িয়ে যান
৫. মাস্ক পরুন
এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকার কাজে এগিয়ে যাবেন।