মহিলাকে WhatsApp VIDEO CALL-এ বসিয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট৭.২২ লক্ষ টাকার ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণার মামলার কিনারা করল পুলিশ। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের ব্যাঙ্কিং নেটওয়ার্কেরও হদিশ মিলেছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬টি মোবাইল ফোন, একটি HP Victus ল্যাপটপ, ১৮টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ১৫টি সিম কার্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামগ্রী।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এম.এস. নামে এক মহিলা ৭.২২ লক্ষ টাকা খুইয়ে পুলিশের কাছে দ্বারস্থ হন। মহিলা জানান, প্রতারকরা নিজেদের মুম্বই ATS, IPS অফিসার এবং CBI আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে বহু সময় ধরে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে কথা বলতে থাকে। এরপর তাঁকে ভয় দেখিয়ে RTGS-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। মহিলার থেকে গোটা ঘটনা শুনে, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার সাউথ থানায় একটি ই-এফআইআর দায়ের করা হয়।
তদন্তে নেমে আর্থিক লেনদেন ও টেকনিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, প্রতারণার টাকা প্রথমে সমীরণ রায় ও প্রিন্স সাউ-এর একটি বন্ধন ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। পরে সেই অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে সরিয়ে ফেলা হয়। এক্ষেত্রে যাতে লেনদেনের উৎস গোপন রাখা যায়, সেই উদ্দ্যেশেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছিল প্রতারকরা।
ঘটনার তদন্তে নেমে ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা থাইল্যান্ড ও মায়ানমারে সক্রিয় সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র খুঁজে পান। এরপর প্রযুক্তিগত সূত্রের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়ায় অভিযান চালিয়ে সমীরণ রায়, প্রিন্স সাউ এবং সমর চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়। এরমধ্যে সমীরণ রায়ের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এবং বাকি দু'জনকে গ্রেফতার করা হয় হাওড়া থেকে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা সংগঠিত সাইবার প্রতারণা চক্রকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সিম কার্ড এবং ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করত। এই চক্রের সদস্যরা 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'-এর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য করত।