
সাম্প্রতিক সময় ডাক্তাদের ভুল চিকিৎসার জন্য রোগীর প্রাণে শেষ হওয়ার অভিযোগ আপনি ভুরি ভুরি শুনতে পাবেন। আবার সাত-আট ঘণ্টা ধরে ওটি করে ক্রিটিক্যাল অপারেশন করে রোগীকে প্রাণে বাঁচানোর ঘটনাও আপনি দেখতে পাবেন। এই সবের মধ্যে জালওষুধ কেলেঙ্কারি, স্যালাইন কাণ্ড অনেক কিছুই হচ্ছে। তবে তার মধ্যে আপনাদের এক ডাক্তারের কথা বলি। যিনি সারাচ্ছেন বড় বড় রোগ,নিচ্ছেন মাত্র এক টাকা ভিজিট। সুপারসনিক যুগে দেখা মিললো এমনই এক ডাক্তারের।
গলায় স্ট্যাথো, চোখে চশমা, পরনে ট্রাউজার এবং অতি সাধারণ এক জামা,রুগি দেখছেন ডাক্তার ধল্ল। ইনি নাকি এক টাকার ডাক্তার মানে তাঁর ভিজিট মাত্র এক টাকা। শুনে অবাক হচ্ছেন তো, বর্তমান দিনে যেখানে বড় বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রোগীদের দেখেন ডাক্তারবাবুরা, সেই যুগে দাঁড়িয়ে এক টাকা ভিজিটে রোগী দেখা?
প্রসঙ্গত বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দা ডা:পি ধল্ল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.বি.বি.এস পাস করেন। তিনি বক্ষ এবং হাঁপানি সংক্রান্ত রোগ বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েসন কমপ্লিট করেন। তারপরে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে যোগদান করার পর চলে সাধারণ মানুষের জন্য এক টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া।
যেখানে নানাভাবে ডাক্তারদের দোষারোপ করতে ব্যস্ত থাকতে আম জনতা, ডাক্তার মানেই অমানবিক, টাকা চোষার মেশিন সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বক্ষরোগ বিশেষজ্ঞ ডা:পি.ধল্ল। সপ্তাহজুড়ে ব্যস্ততার পর শুক্রবার করে সাধারণ মানুষের জন্য,তাঁর বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড়ের বাসভবনে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এক টাকার বিনিময়ে চলে রোগী দেখা। কিন্তু পারিশ্রমিক এক টাকা কেন, ডাক্তারবাবুর দাবি কোনও কিছুর বিনিময়ে রোগীদের দেখতে হয় তাই কিছু না নিলেই নয় তাই এই ১ টাকা সাম্মানিক। বাঁকুড়া জেলা তো বটেই,এমনকি পুরুলিয়া, মেদিনীপুর,বর্ধমান জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আছেন এই ধন্বন্তরীর কাছে।
বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড়ের বাসিন্দা ডা: প্রিয়তোষ ধল্ল জানাচ্ছেন, বর্তমান দিনে ডাক্তাররা পয়সার পিছনে ছুটছেন। তিনি বলেন, 'ভগবানের আশীর্বাদ রয়েছে বলে আমরা ডাক্তার হতে পেরেছি। তাই মানবিকতাটা থাকা একান্তই দরকার।'আগত রোগীরা জানাচ্ছেন তাঁরা খবর পেয়ে এই ডাক্তারের কাছে ছুটে এসেছেন রোগ মুক্তির আশায়। বর্তমান যেখানে মানবিকতা একটা বিলুপ্ত প্রায় অধ্যায়, এই জায়গায় দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন ১ টাকার ডাক্তারবাবু প্রিয়তোষ ধল্ল।
রিপোর্টার : নির্ভীক চৌধুরী