নানুরের স্কুলে মদ্যপ হেডমাস্টারআমরা স্কুলে সন্তানদের কেন পাঠাই? লেখাপড়া শিখে মানুষ হওয়ার জন্য। ভবিষ্যতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য। কিন্তু সেই মানুষ গড়ার কারিগর অর্থাৎ যাঁরা স্কুলের শিক্ষক তাঁরাই যদি খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েন, তাহলে কী হবে? যাঁরা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মানুষ হতে শিক্ষিত করে তুলবেন তাঁরাই যদি বদভ্যাসে লিপ্ত হন তাহলে তাঁদের দেখে কী শিখবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম? ভাবছেন তো কেন এই কথাগুলো বলছি? তাহলে শুনুন রাজ্যের এমন একটি স্কুলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যেখানে স্কুলের শৌচালয়ে ঢুকু ঢুকু গিলে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় স্কুলে আসার অভিযোগ উঠেছে স্কুলেরই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা বীরভূমের নানুরের মধ্যখড়া প্রাথমিক স্কুলের।
একবার ভাবুন, যে স্কুলে আপনার সন্তানদের পাঠিয়ে আপনি বাড়িতে নিশ্চিন্তে থাকেন ছেলেমেয়ে মানুষ হবে, শিক্ষিত হবে ভেবে, সেই স্কুলেরই হেডস্যারের এই আচরণ! তিনি নাকি প্রতিদিনই মদ্যপান করেই স্কুলে আসেন। শুধু তাই নয় তাঁর স্কুলে আসার কোনও নির্দিষ্ট সময়ই নাকি নেই। যাকে বলে নিজের খেয়াল খুশি মতো নাকি তিনি রোজ স্কুলে আসেন নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে। স্কুলের পড়ুয়া থেকে অভিভাবক, সবাই অভিযোগ, বহুবার এই প্রধান শিক্ষককে সতর্ক করেও কোনও লাভ হয়নি।
স্কুলের অভিভাবকদের অভিযোগ, সম্প্রতি স্কুলেরই শৌচালয়ে একটি বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রধান শিক্ষকের মুখে মদের গন্ধ পাওয়া যায়। অভিভাবকদের দাবি, বোতলটি শিক্ষকেরই। যদিও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না। ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তাঁকে বিদ্যালয়ে পড়াতে বাধা দেন এবং স্কুলের ভিতরেই আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান।
তাঁদের সাফ বক্তব্য, অবিলম্বে অন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হোক অথবা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাঁর আচরণে সংশোধন আনুন—তার আগে পর্যন্ত বিদ্যালয় স্বাভাবিকভাবে চালু করতে দেওয়া হবে না।
অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সরকার প্রায় প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে, প্রায় দুপুর বারোটার পর স্কুলে আসেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়াদের অভিভাবকদের দাবি, একাধিকবার সতর্ক করার পরও তাঁর আচরণে কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। (রিপোর্টারঃ শান্তনু হাজরা)