ভোটের মাত্র দু’দিন আগে এই সিদ্ধান্ত কেন? রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে জল্পনা।ফলতায় পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূলের জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ফলতার শান্তি এবং উন্নয়নের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভোটের মাত্র দু’দিন আগে এই সিদ্ধান্ত কেন? রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে জল্পনা। বিরোধীদের কটাক্ষ, হার নিশ্চিত বুঝেই কি পিছিয়ে গেলেন জাহাঙ্গির? আবার তৃণমূলের অন্দরেও উঠছে প্রশ্ন। দল কি শেষ মুহূর্তে কৌশল বদল করল?
শুভেন্দুর প্রশংসা করলেন জাহাঙ্গির?
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা কেন্দ্র ফলতা। আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন। তার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে সাংবাদিক বৈঠক করেন জাহাঙ্গির। বলেন, 'আমি বরাবরই ফলতার উন্নতির জন্য লড়াই করেছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোনার ফলতার জন্য বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন। তাই ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তির জন্য এবং সোনার ফলতা গড়ার স্বার্থে আমি নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।' এই সিদ্ধান্ত শুধুই তাঁর ব্যক্তিগত বলেও জানান।
ভোটে কারচুপির অভিযোগও অস্বীকার করেন জাহাঙ্গির। ইভিএমে টেপ লাগানো বা আতর ছড়ানোর মতো অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, এ সবের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই।
পরাজয়ের আশঙ্কা?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, জাহাঙ্গির কি পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন? এর আগে ভোট চলাকালীন তাঁকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা আইপিএস আধিকারিকদের উদ্দেশে 'পুষ্পা ঝুকেগা নেহি' জাতীয় ফিল্মি ডায়লগও দিয়েছিলেন। সেই জাহাঙ্গিরই সরে দাঁড়ানোয় কটাক্ষ করছেন বিরোধীরা।
আত্মতুষ্টি নয়, বলছেন শুভেন্দু
মঙ্গলবার ফলতায় রোড শো করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বলেন, 'যিনি বলেছিলেন ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি’, তিনিই এখন ঝুঁকে পড়েছেন। মানুষ ২১ তারিখে তাঁকে সরিয়েই দিত। এখন নিজেই সরে গেলেন।' শুভেন্দু আরও বলেন, এটি তৃণমূলের নতুন রাজনৈতিক কৌশলও হতে পারে, যাতে ভোটাররা আত্মতুষ্টিতে ভোগেন। সকলকে ১০০% ভোটদান নিশ্চিত করার আর্জি জানান শুভেন্দু।
অভিষেকের কোর্টে বল ঢেললেন কুণাল
অন্য দিকে, তৃণমূলের কুণাল ঘোশ(Kunal Ghosh) বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো ফলতায় যাননি। এটা হয়তো দলের স্ট্র্যাটেজি। পার্টির কর্মীরা চেয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফলতায় যান। কিন্তু উনি যাননি। কেন যাননি, এটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই বলতে পারবেন।'
দলকে পাশে পেলেন না জাহাঙ্গির?
জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্তের পর আরও একটি জল্পনা ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। গত লোকসভা নির্বাচনে ফলতা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় লিড পাইয়ে দিয়েছিলেন জাহাঙ্গির। অথচ পুনর্নির্বাচনের প্রচারে একবারও অভিষেককে তাঁর পাশে দেখা যায়নি। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী পুরোদমে ফলতায় প্রচার চালাচ্ছেন। সেই অভিমান থেকেই কি এই সিদ্ধান্ত? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগের তির ছিল তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের দিকেই। বিরোধীদের দাবি ছিল, তাঁর নির্দেশেই ভোটে কারচুপি হয়েছে। যদিও তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।