বারুইপুর কেসবারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর হিংসা এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আর সেই ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫। শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছেন এক পুলিশ কর্তা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বারুইপুর পুলিশ জেলা কর্তৃপক্ষ রাতভর এলাকায় অভিযান চালায়। তাতেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক উচ্চপদস্ত কর্মকর্তা পিটিআই-কে বলেন, 'আমরা আরও পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছি। যার ফলে হিংসার মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ৩৫-এ পৌঁছেছে। অভিযান এখনও চলছে। আরও গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে।'
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রতিটি ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মাথায় রাখতে হবে, এই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। একটি স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্বারা অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগে। অন্যটি অশান্তির সময় পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে।
ওই পুলিশ অফিসার আরও বলেন, 'পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। আমরা প্রমাণ এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেছি। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
প্রসঙ্গত, গত শনিবার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর অশান্ত। ওই দিন এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। তার পরিবার পুলিশের কাছে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করে। একদিন পর তার দেহ উদ্ধার হয়।
দেহ উদ্ধারের পরপরই, উত্তেজিত জনতা ওই নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। এছাড়াও তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। করা হয় রাস্তা অবরোধ। রেললাইনে ভাঙচুর চলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। সেই কর্মীদের উপরেও হামলা চালানো হয়। পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নির্দোষ ছিলেন। যারা তাকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হবে। সেই কথা মতোই চলছে পুলিশ।
সেই মামলাতেই এবার একের পর এক গ্রেফতারি চলছে। এছাড়া ধর্ষণ ও খুনের মূল মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে।