
বাংলাদেশে ফিরতে হাকিমপুর সীমান্তে আজও লম্বা লাইন অনুপ্রবেশকারীদের
মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর সীমান্তের চেকপোস্টে বাংলাদেশিদের জমায়েত দেখা যায়। বুধবারও সেই চিত্র বদলালো না। এদিনও সকাল থেকে হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী দেশে ফেরার অপেক্ষায় হাকিমপুর সীমান্তে অপেক্ষা করছেন।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সরকারি নির্দেশিকা জারি হতেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক অনুপ্রবেশকারীদের। সেই দৃশ্যই ধরা পড়ছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হাকিমপুর সীমান্তে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল হাকিমপুর সীমান্তে বিএসএফ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন প্রায় দুশোর বেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মুখোমুখি হয়। আইনি কার্যক্রমের জন্য তাদের তিনটি স্থানীয় অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে,নিয়ম অনুযায়ী সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের মতো এদিন সকালেও হাকিমপুর চেকপোস্টের কাছে ট্রলি, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ছাউনির নীচে, আবার কেউ রাস্তায় প্লাস্টিক পেতে অপেক্ষায় রয়েছেন সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে যাওয়ার। গত অক্টোবর মাসে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার সময়ও এমন ছবি দেখা গিয়েছিল।

সম্প্রতি রাজ্যের নতুন সরকার অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য জেলাভিত্তিক ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে নবান্নের তরফে তোড়জোড় শুরু হতেই অবৈধ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে সন্দেহভাজনদের ৩০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে। এছাড়াও, যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং যাদের ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে, তাঁদেরও এই কেন্দ্রে রাখা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা জানার পরই অনুপ্রবেশকারীরা পালানোর জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে।