গঙ্গাসাগরে মাংসের দোকানে মানুষের মাথার খুলি - নিজস্ব চিত্রমাংসের দোকানে উদ্ধার হল মানুষের মাথার খুলি। চাঞ্চল্যকর ঘটনা গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণনগর বাজারে। ওই মাংসের দোকানটি আবার স্থানীয় তৃণমূল নেতার। তাই রাজনৈতিক চাপাউতোরও তুঙ্গে।
কীভাবে পাওয়া গেল মানুষের মাথার খুলি
আজ অর্থাত্ বৃহস্পিবার সকালে গঙ্গাসাগর এলাকার কৃষ্ণনগর বাজারে একটি মাংসের দোকান থেকে মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার হয়। রহস্যজনক এই ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। পাশাপাশি দোকানদারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর বাজারের বাসিন্দা শত্রুগণ দাস ওই এলাকার আইয়ুব আলি শেখের মাংসের দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দোকানদার তাঁর হাতে একটি ব্যাগ দেন। শত্রুগণবাবুর ধারণা হয়েছিল, হয়তো পাশের কোনও বাড়ির বাসিন্দা মাংস কিনে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাগটি দেওয়া হয়েছে।
ব্যাগ খোলার পরেই চমকে ওঠেন শত্রুগণ
কিন্তু ব্যাগটি খোলার পরই চমকে ওঠেন তিনি। ব্যাগের ভিতরে একটি মানুষের মাথার খুলি দেখতে পান। এরপর বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। স্থানীয়দের প্রশ্নের উত্তরে আইয়ুব আলি শেখ দাবি করেন, তাঁর এক নাবালক ছেলে খালের ধারে মাছ ধরতে গিয়ে ওই খুলিটি দেখতে পায়। সেখান থেকেই সেটি কুড়িয়ে এনে বাড়িতে রাখা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তবে কীভাবে খুলিটি খালের ধারে এল এবং সেটি কত পুরনো, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
খুলিটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মর্গে
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাগর থানার পুলিশ। পুলিশ খুলিটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মর্গে পাঠিয়েছে। খুলিটির উৎস এবং তার সঙ্গে কোনও অপরাধের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আইয়ুব আলি শেখ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। যদিও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এবং উদ্ধার হওয়া খুলির ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ দোকানদারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মাথার খুলিটি কোথা থেকে এল, কতদিন আগে সেটি সেখানে পৌঁছেছিল এবং ঘটনার পিছনে কোনও অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্ত ও ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে তদন্তে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।