শুভেন্দুর হুঁশিয়ারির পরেই ঢোঁক গিললেন হুমায়ুনবিধানসভা থেকে সরাসরি রেজিনগর ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুমায়ুনের 'স্যাটাভাঙা' মন্তব্য ও মুসলমানদের নিয়ে রাস্তায় নামার হুমকির পরেই বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বাংলায় এসব আর চলবে না।
হুমায়ুন কবীরকে ‘সবক’ শেখানোর হুঙ্কার দিয়ে, তাঁকে ভাষা নিয়ে সংযত থাকতে বলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, "আগে উনি (হুমায়ুন কবীর) মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে ডিল করেছেন। কিন্তু এবার আমাকে ডিল করতে হবে। আমাকে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী ভাববেন না।"
মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পরেই গ্রেফতার হন কাশীপুরে হুমায়ুনের সভার আয়োজক। এরপরেই ঢোঁক গিললেন রেজিনগর ও নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ওই দিন বিধানসভা থেকে বেরিয়ে তিনি বলেছিলেন, 'ক্ষমা চাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।' কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন হুমায়ুন।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর বলেন, "আমি মুসলমানদের নিয়ে নামব বলেছিলাম। আমার এটা বলা ভুল হয়েছে। সেটা প্রত্যাহার করলাম।" একইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, "আমি দু’লক্ষ ভোট পেয়েছি একা। ...কারও দয়ায় ভোট পাইনি।”
পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবীর বলেন, "শক্তিশালী মুখ্যমন্ত্রী হলেই যে, সংবিধানের শপথ নিয়ে তিনি যা খুশি করতে পারেন, এটা আমার জানা নেই।" একইসঙ্গে তিনি জানান, "কারও কাছে আত্মসমর্পণ করে টিকে থাকার প্রয়োজন দেখছি না।"
উল্লেখ্য, কাশীপুরের সভা থেকে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আগামী ৩ ও ৪ তারিখ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবীরকে। বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, "আগামী ৩ জুলাই ডেকেছে শক্তিপুর থানা ও ৪ জুলাই ডেকেছে রেজিনগর থানা। ৩ তারিখ আসতে দিন, সেদিন কী করব সেদিন জানাব।"