বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজফের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গুরুতর অভিযোগ। এবার এই মেডিক্যাল কলেজের ফেস্টের জন্য প্রথম বর্ষের এমবিবিএস পড়ুয়াদের কাছ থেকে মোটা টাকা তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। আর অভিযোগ করা হয়েছে আরএসএস-এর চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল মেডিকস অর্গানাইজেশনের (এনএমও) বিরুদ্ধে।
সমাজমাধ্যমে এমন একটি পোস্ট করেছেন এক পড়ুয়া। সেখানে অভিযোগ, এনএমও-এর নাম ব্যবহার করে ফেস্টের জন্য কয়েক হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে হেনস্থা করা হতে পারে। আর স্বভাবতই এহেন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। যদিও এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এনএমও। তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানান হয়েছে, ইতিমধ্যেই তারা প্রাথমিক খোঁজখবর নিয়েছে। এমন কোনও ঘটনার সঙ্গে এনএমও-এর কেউ জড়িত নয়। এমনকী এমন অভিযোগ সংগঠনকে কালিমালিপ্ত করার জন্যও ঘটতে পারে বলে দাবি করছে তারা। পাশাপাশি এমন কিছু ঘটলে ইমেল করে বা ফোন করে অভিযোগ জানানোর কথাও বলা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে এনএমও-এর সভাপতি ডা: রুদ্রনীল নন্দী বলেন, 'এরকম ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাই সন্দেহ রয়েছে। শুধুমাত্র সাংগঠনিকভাবে বদনাম করার জন্য কেউ হয়তো এই কাজটা করেছে। কারণ, লেখাটা কে লিখেছে সেটা আমরা জানতে পারছি না। কে তার কাছে টাকা দাবি করেছে, সেটাও লেখা নেই।'
তিনি জানান, ওই হাসপাতালে যাঁরা এনএমও করেন, তাঁদের কাছেও এই খবর নেই। তাই তিনি মনে করছেন, এটা একটা 'ম্যানুফ্যাকচার্ড' ঘটনা।
রুদ্রনীল আরও বলেন, 'আমরা ইমেল আইডি দিয়েছি। কেই যদি নাম লুকিয়ে আমাদের কিছু জানাতে চান, তাহলে সেটাও করতে পারেন। কিন্তু কোনও অভিযোগ আসেনি। আমরা পরিষ্কার বলেছি, এই ধরনের কোনও অভিযোগ যদি কেউ প্রশাসনকে জানায়, তাহলে প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিক। আমরা সংগঠনের দিক থেকে যা কিছু করার, তাই করব। যদি ধরে নিই, এনএমও ইউনিটের কোনও একজন মেম্বার এই কাজটা করেছে, তাহলে একদম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অ্যাকশন নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কোনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। আমরা এই সংস্কৃতিটার পরিবর্তন চাই। তৃণমূলের সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই।'
এই বিষয়ে একই মত সংগঠনের সম্পাদক ডা: অর্ণপ পালের। তিনি বলেন, 'বর্ধমানে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে Reddit নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নাম প্রকাশ না করেই এনএমও নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে দেখি, সাংগঠনিকভাবে এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। সবচেয়ে বড় কথা সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা কোনও কলেজের অফিসিয়াল প্রোগ্রামগুলো দখলদারি করি না। কিন্তু অবশ্যই আমাদের যাঁরা কর্মকর্তারা আছেন, তাঁরাও তো সেই কলেজেরই ছাত্র। তাই তাঁরা থাকেন। কিন্তু টাকা তোলার কোনও বিষয় নেই। আমাদের বিচারধারায় এইভাবে টাকা তোলায় বিশ্বাসী নই। এর সঙ্গে এনএমও যুক্ত নয়।'