বাংলায় লাফিয়ে বাড়ল পাটের দামরাজ্যে নতুন সরকার আসতেই বাংলায় ধীরে ধীরে খুলছে বহু চটকল। খোদ শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে এবার জানা গেল নতুন তথ্য। শুধুমাত্র চটকল খোলা নয়, পাট চাষ করেও এ বছরে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম পাচ্ছেন তাঁরা।
এরাজ্যে নদীয়া থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলায় বিপুল সংখ্যক কৃষক প্রচুর পরিমাণে পাটচাষ করেন। রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ পাট চাষ হয় নবাবদের শহর মুর্শিদাবাদেই। সরকারি তথ্য বলছে, চলতি মরশুমেই মুর্শিদাবাদে ১ লক্ষ ৩০হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। জেলার নওদা, হরিহরপাড়া, বহরমপুর, কান্দি, জলঙ্গি, রানিনগর, ডোমকল, ইসলামপুরে বেড়েছে পাট চাষ।
বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা জানিয়েছেন, এবছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উপযুক্ত। তাই ফলন ভালো হয়েছে। মূলত জুন মাসে প্রচণ্ড গরমের পর জমি যখন শুকিয়ে ছিল, তখন মাঝে মধ্যে কালবৈশাখীর জেরে ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এরফলে পাটের জমিতে জলের ঘাটতি মিটছে। ফলে ফলনও হয়েছে যথেষ্ট।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের এক পাট চাষি জানিয়েছেন, এবছর কেজিপ্রতি তাঁরা ১৪০-১৫০ টাকা করে দাম পাচ্ছেন। অন্য বছরে এই দাম খুব বেশি হলে ৭০-৮০ টাকা থাকে।
জয়নাল মণ্ডল নামে নদীয়ার এক পাটচাষি বলেন, "আগে পাটের দাম কুইন্টাল প্রতি ৭০০০-৮০০০ টাকা পাওয়া যেত। এই বছর সেই দাম রয়েছে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।" এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে পাট আসাতে সমস্যা হওয়ার কারণেই পশ্চিমবঙ্গের পাটচাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এছাড়াও, এই সময় কিছু ব্যবসায়ী বাজারের থেকে বেশি দামে পাট স্টক করেন। তার ফলেও পাটের দাম কিছুটা বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বস্তুত বাংলাদেশি পাটের তন্তুর রঙ অনেক উজ্জ্বল হয়। ফলে তার চাহিদাও ভারতে যথেষ্ট বেশি। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের তরফে পাট রফতানিতে সমস্যা দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের তরফে দাবি, ভারত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতেই পাট রফতানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
আর এর জেরেই বাংলায় পাটচাষ করে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। তাঁরা আশা করছেন, আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্তই তাঁরা পাটের ভাল দাম পাবেন।