পুরনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পুরনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। X হ্যান্ডলে লেখেন, কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘পুরনো মামলা খুঁড়ে বার করার’ রাজনীতির অভিযোগও করেছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হয়েছেন।
মমতার বক্তব্য, 'কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানানোর পরেই গ্রেফতার। এখনই কেন?' তাঁর অভিযোগ, ভোটে কারচুপি, ভয় দেখানো এবং বিরোধীদের জায়গা না দেওয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা হচ্ছে।
মমতার সমর্থনের পরেই গ্রেফতার মিলন
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রথমে মমতা-বিরোধী তৃণমূল গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। তারপর মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর পরেই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা।
কালিঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা জানান, নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থন করবে তাঁর দল। রেজিনগর নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা।
কোন মামলায় গ্রেফতার মিলন?
শুক্রবার রেয়াপাড়ায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করছিলেন মিলন প্রধান। সেই সময় তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে বলে খবর। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, একটি পুরনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। পুলিশের দাবি, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময়কার একটি পুরনো হত্যা মামলায় তাঁর নাম ছিল। তবে গ্রেফতারির বিষয়ে পুলিশ এখনও কোনও অফিসিয়াল বিবৃতি দেয়নি।
‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’, অভিযোগ কংগ্রেসের
মিলন প্রধানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের নির্বাচনে লড়ার জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।
কংগ্রেসের তরফে গ্রেফতারির সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকে সমর্থনের কথা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়।
মমতা শিবিরের তৃণমূল নেতারাও গ্রেফতারির নিন্দা করেছেন। দ্রুত মিলন প্রধানকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।