বর্ধমানে জঙ্গি আটক (প্রতীকী ছবি)বর্ধমান শহরের ব্যস্ত এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার এক যুবক। তাকে পাকিস্তান যোগের সন্দেহে গ্রেফতার করছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসাজশের সন্দেহে গত ৪-৫ দিন ধরে হামিম মণ্ডলের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পাশাপাশি বর্ধমানে থাকার সময় কয়েক মাস ধরেই গোয়েন্দাদের নজরে ছিল তার উপর। এরপর বর্ধমান শহরের একটি বেসরকারি টাউনশিপ থেকে তাঁকে আটক করে এসটিএফ।
তদন্তকারীদের দাবি, নজরদারির সময় হামিমকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছে। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতের পাকিস্তানে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার মোবাইল ফোনে একাধিক সন্দেহজনক তথ্য মিলেছে। এছাড়া তার কাছেও সন্দেহজনক সামগ্রী ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পাশাপাশি শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতকে পূর্ব বর্ধমানের স্থানীয় আদালতে তোলা হবে। এরপর পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কোথা থেকে গ্রেফতার?
সূত্রের খবর, হামিম বর্ধমান শহরের জনবহুল এলাকা থেকেই গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে রেনেসাঁ কমপ্লেক্স থেকে গ্রেফতার করা হয়। এটি একটি অভিজাত আবাসন। ওই আবাসনেই একটি ফ্ল্য়াট ভাড়া নিয়ে থাকত হামিম।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে আসার আগেও বাংলাতেই থাকত এই সন্দেহভাজন জঙ্গি। এর আগে সে বাসা বেঁধেছিল নিউটাউনে। সেখানে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েই থাকত হামিম। ওই ফ্ল্যাট থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ফ্ল্যাট খুব বেশি দূরে নয়। আর এই বিষয়টা নিয়েই চিন্তিত গোয়েন্দারা। তারা বোঝার চেষ্টা করছেন ঠিক কেন এই কাজটা করছে হামিম।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ছিলেন টার্গেট?
শুভেন্দু অধিকারীর ফ্ল্যাটের আশপাশেই থাকত হামিম। আর সেখান থেকে তাঁর গতিবিধির দিকে নজর রাখতে সে। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী যেই রাস্তা দিয়ে ফিরতেন, সেই রাস্তার রেকিও করা হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে এসটিএফ সূত্রে।
এমতাবস্থায় হামিমের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখেন গোয়েন্দারা। সেখানে থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসেছে। জানা গিয়েছে, ফোনে নিয়মিত নিজের হ্যান্ডেলারের সঙ্গে যোগযোগ রাখত সে।
তবে এখনও এর বেশি কোনও তথ্য জানা যায়নি। আজই হামিমকে আদালতে তোলা হচ্ছে। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই তদন্ত হবে বলে দাবি করছে পুলিশ সূত্র।