মন্দারমণির উত্তাল সমুদ্রে ফের মৃত্যুসমুদ্র দেখার আনন্দ নিমেষে বদলে গেল বিষাদে। মন্দারমণিতে সমুদ্রস্নানে নেমে তলিয়ে গেল গোটা পরিবার। ইতিমধ্যেই এক নাবালকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ দম্পতি। মৃত ওই নাবালকের নাম সোমনাথ হালদার (১০)। সোমনাথকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
জানা যাচ্ছে মন্দারমণির একটি রিসর্টের সামনে সমুদ্রে স্নান করতে নামেন শান্তিপুরের বাসিন্দা সুমন শীল (২৪), বৃষ্টি শীল (১৮) এবং তাঁদের পরিচিত নাবালক সোমনাথ হালদার (১০)। দিঘা থেকে টোটো করে মন্দারমণিতে বেড়াতে এসে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তিনজনেই তলিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ । মন্দারমণি কোস্টাল থানার অন্তর্গত কালিন্দী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। মন্দারমণি গোয়া বিচ রিসোর্টের সামনেই সপরিবারে স্নানে নামেন তাঁরা। তারপর উত্তাল সমুদ্রে তলিয়ে যান। নাবালককেস্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে বালিসাই বড় রাঙ্গুয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সোমনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মন্দারমণির এই মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃত্যু ওনিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য সমুদ্রতীরেও। পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, সোমনাথের মা-বাবা কর্মসূত্রে দিঘায় থাকেন। নদিয়ার শান্তিপুর থেকে আত্মীয়রা দিঘায় বেড়াতে এসেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁরা মন্দারমণিতে সমুদ্রস্নানে গিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, আচমকা উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে তিনজন তলিয়ে যান।
নিখোঁজ সুমন ও বৃষ্টি শান্তিপুরের বাগদেবী গ্রামের বাসিন্দা। দাদার বাড়িতে তাঁরা বেড়াতে এসেছিলেন। দাদার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলেন সমুদ্রস্নানে। সেখানেই মারাত্মক কাণ্ড ঘটে যায়। ১০ বছরের বালকের দেহ উদ্ধার হলেও তাঁদের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোস্টাল পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে।
বর্তমানে নিখোঁজ নবদম্পতি সুমন ও বৃষ্টির খোঁজে সমুদ্রে স্পিডবোট ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকায় এবং জোয়ারের প্রবল টানের কারণে উদ্ধারকার্য চালাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলে পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন। পর্যটন কেন্দ্রে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে অগাস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে মন্দারমণির সমুদ্রে স্নানে নেমে দুই পর্যটকের তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আবারও তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল মন্দারমণিতে।
উল্লেখ্য, দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুরের সমুদ্রে তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। অভিযোগ, পুলিশ ও নুলিয়াদের নজরদারির অভাবে তলিয়ে মৃত্যুর মতো ঘটনা বাড়ছে মন্দারমণিতে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, ‘মৃতরা ও নিখোঁজ নদিয়ার বাসিন্দা। তবে এরা ঠিক পর্যটক নয়। দিঘা মোহনায় কাজ করেন। মন্দারমণি বেড়াতে এসেছিলেন।’ তাঁর অভিযোগ, পর্যটকদের সতর্ক ও সচেতন করতে নিয়মিত মাইকে প্রচার করা হয়। নজরদারি বাড়ানো হলেও পর্যটকদের বেপরোয়া মনোভাবের জন্যে তলিয়ে মৃত্যুর মতো ঘটনা বাড়ছে। নজরদারির জন্যে নুলিয়াদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে পর্যটকরা সচেতন না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।