"আমাকে জেলে ভরে সামলাতে পারবে তো?", প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মন্তব্য মনিরুল ইসলামের

ফারাক্কা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)অফিসে SIR শুনানি চলাকালীন তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল।

Advertisement
"আমাকে জেলে ভরে সামলাতে পারবে তো?", প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মন্তব্য মনিরুল ইসলামেরমনিরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল
হাইলাইটস
  • তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল।
  • এখনও পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা।
  • এরই মধ্যে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক নিজেই।

ফারাক্কা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)অফিসে SIR শুনানি চলাকালীন তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। এখনও পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক নিজেই। 

মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমাকে জেলে ভরে সামলাতে পারবে তো? ফরাক্কায় লাখো লাখো মনিরুল ইসলাম তৈরি হয়েছে। একটা মনিরুলকে জেলে ভরলে হাজার হাজার মনিরুল ইসলাম রাস্তায় নামবে, বিক্ষোভ করবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। 

নির্বাচন কমিশনের এফআইআর নির্দেশ প্রসঙ্গে বিধায়ক আরও বলেন,“তুমি ঠিক করবে, আমি ভারতবর্ষের নাগরিক কি না। নেতাজি বলেছিলেন— তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। আমি বলছি, আপনারা আমার পাশে থাকুন। যদি একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যায়, তাহলে প্রথম গুলিটা মনিরুল ইসলাম খাবে।” এছাড়াও তিনি দাবি করেন, মনিরুলকে জেলে ভরার আগে সমস্ত বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদদের জেলে যাওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত বুধবার ১৪ জানুয়ারি। সেদিন ফারাক্কা বিডিও অফিসের সামনে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা ধরনায় বসেন। তাঁরা ইআরও-র কাছে ইস্তফাপত্রও জমা দেন। এরপর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বিডিও অফিসে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। স্লোগান ওঠে— ‘এসআইআর মানছি না, মানব না।’ বিডিওর চেম্বারে চেয়ার ছোড়া হয় টেবিলের দিকে, গেট অবরুদ্ধ করে অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানানো হয়। এই ঘটনায় সাময়িকভাবে শুনানির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হিয়ারিং ক্যাম্পেও ভাঙচুর হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে জঙ্গিপুর থানায় বিডিও নিজেই এফআইআর দায়ের করেন। তবে সেই এফআইআরে স্থানীয় বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বা তাঁর সঙ্গে থাকা কোনও তৃণমূল নেতার নাম না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে।

Advertisement

ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়, বিডিওর চেম্বারে তৃণমূল বিধায়কের অনুগামীরা তাণ্ডব চালাচ্ছেন। অভিযোগ, সেই সময় বিধায়ক নিজেও বিডিও অফিস চত্বরে উপস্থিত ছিলেন। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জঙ্গিপুর মহকুমা শাসককে। 

নির্বাচন কমিশনও বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেয়, যদিও এখনও পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মহকুমা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম। চিঠিতে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। শব্দচয়নে ভুল হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি দাবি করেছেন। ফারাক্কা কাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। 

- সব্যসাচী ব্যানার্জি

 

POST A COMMENT
Advertisement