Monsson Latest Update : হঠাৎই চরিত্র বদলে আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছে বর্ষা, বৃষ্টি চলতেই থাকবে

INSAT-3DS স্যাটেলাইটের ছবিতে মধ্য ভারত থেকে বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত ঘন মেঘের একটি বিস্তৃত বলয় দেখা যাচ্ছে। ফলে এই রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement
হঠাৎই চরিত্র বদলে আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছে বর্ষা, বৃষ্টি চলতেই থাকবে     ছবি সৌজন্য : IMD
হাইলাইটস
  • দেশের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে মৌসুমী মেঘ জমাট বেঁধে আছে
  • আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই মেঘগুলি গভীর কনভেকশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত

ভয়ঙ্কর চেহারা বর্ষার। এখনই তা বিদায় নিচ্ছে না। বরং দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) এবং ইসরোর INSAT-3DS স্যাটেলাইট থেকে থার্মাল ইনফ্রারেড ছবি। 

সেখানে দেখা যাচ্ছে, দেশের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে মৌসুমী মেঘ জমাট বেঁধে আছে। মধ্য ভারত, গঙ্গার সমতলভূমি এবং পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির উপর ঘন, উজ্জ্বল মেঘের মোটা আস্তরণ তৈরি হয়েছে। 

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই মেঘগুলি গভীর কনভেকশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ, বাতাস দ্রুত উপরের দিকে উঠে গিয়ে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ বর্ষা এখনও সক্রিয়। তবে আগের মতো তার তীব্রতা এবং বিস্তার নেই। কিন্তু যেভাবে মেঘ আছে, তাতে সেপ্টেম্বরের প্রথম দু সপ্তাহ পর্যন্ত একাধিক দফায় বৃষ্টি হতে পারে। 

INSAT-3DS স্যাটেলাইটের ছবিতে মধ্য ভারত থেকে বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারত পর্যন্ত ঘন মেঘের একটি বিস্তৃত বলয় দেখা যাচ্ছে। ফলে এই রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলার সঙ্গে সঙ্গে বিহার,ঝাড়খণ্ডের মতো পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে আগামী মাসের প্রথম পনেরো দিনে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। জল জমা বা বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে। 

বৃষ্টির বদলে যাওয়া চেহারা

ওই ছবি থেকেই পরিষ্কার, বর্ষা এখন গোটা দেশে একইভাবে সক্রিয় নেই। পূর্ব ভারতে বৃষ্টি চলতে থাকলেও অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম এবং দক্ষিণ ভারতের বড় অংশ তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং মৌসুমী বায়ুর গতিপথের পরিবর্তনের কারণেই এই অসমতা তৈরি হতে পারে।

পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের কৃষকদের খরার আশঙ্কায় ভুগতে হতে পারে। আবহাওয়া মডেলগুলি বলছে, আগামী কয়েকদিন এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। ফলে আঞ্চলিক স্তরে কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা এবং শহুরে জীবনে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পড়তে পারে।

দিল্লি-NCR-এর ক্ষেত্রেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির ইঙ্গিত রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া মেঘ এবং স্থানীয় কনভেকশন প্রক্রিয়ার কারণে বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় হতে পারে। 

Advertisement

এদিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আজ মঙ্গলবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে চলেছে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রকোপ সবথেকে বেশি থাকবে। পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই দুই উপকূলীয় জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। রাজধানী কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও আগামী ৪৮ ঘণ্টা দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতার আকাশে সারাদিনই মেঘ রোদের খেলা চললেও বিকেলের দিকে বা সন্ধ্যার পর আকস্মিক মুষলধারে বৃষ্টির জেরে জল জমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বেরোনোর সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement