Nandigram By-Election 2026: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে চলেছে BJP? অবস্থা কার্যত তেমনই

অবস্থা এমনই যে, আক্ষরিক অর্থেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণত, উপনির্বাচনে শাসকদলেরই জয় হয়। এমনিতেই সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, এই দুই আসনেই জমিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisement
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে চলেছে BJP? অবস্থা কার্যত তেমনইশুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
হাইলাইটস
  • নন্দীগ্রামে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস
  • ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই ছিল নন্দীগ্রাম
  • 'ওখানে আমাদের জেতার কোনও সুযোগই নেই'

নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন কি পুজোর আগেই হয়ে যাবে? পালাবদলের পরে এই হাইপ্রোফাইল সিটে বিজেপি যে কয়েক যোজন এগিয়ে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন নন্দীগ্রামে রেকর্ড ভোটে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন তৃণমূল কংগ্রেসে শিবরাত্রির সলতে জ্বলছে! নন্দীগ্রামে কেউ প্রার্থীই হতে চাইছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। এর আগে নন্দীগ্রামে দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানকে অনুরোধ করা হয়েছিল প্রার্থী হওয়ার জন্য। পত্রপাঠ তা খারিজ করেছেন তিনি।  

নন্দীগ্রামে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস

অবস্থা এমনই যে, আক্ষরিক অর্থেই নন্দীগ্রামে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস। সাধারণত, উপনির্বাচনে শাসকদলেরই জয় হয়। এমনিতেই সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, এই দুই আসনেই জমিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে নন্দীগ্রাম ছেড়ে তিনি ভবানীপুরকেই বেছে নেন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে। সেই নন্দীগ্রামেই এ বার উপনির্বাচন হবে। বস্তুত, নন্দীগ্রাম ২০২১ সাল থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়ে যায়। সে বার তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন তত্‍কালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মমতার কাছে বড় ধাক্কা। ২০২৬ সালেও জায়ান্ট কিলার শুভেন্দুই। এ বারে আবার ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রামেও জিতেছেন।

২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই ছিল নন্দীগ্রাম

এই নন্দীগ্রামেই জমি আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই ছিল নন্দীগ্রাম। সরকার বামেদের দখলে থাকলেও  ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামে জিতেছিল তৃণমূল। সে বার প্রার্থী ছিলেন ফিরোজা বিবি। ২০১৬ সালে প্রথমবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধায়ক ও পরে মন্ত্রী হন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২০ সালে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগ দেন, কিন্তু নন্দীগ্রামে অধিকারী পরিবারের জনপ্রিয়তায় কোনও ভাঁটা পড়েনি। 

'ওখানে আমাদের জেতার কোনও সুযোগই নেই'

Advertisement

রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা অখিল গিরির দাবি, নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখাচ্ছে পুলিশ। নানা রকম হুমকি দিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে ঠিক করবেন, তিনিই প্রার্থী হবেন। বিজেপি-র ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে লড়াই হবে। তবে আরেক তৃণমূল নেতা নিরঞ্জন মাইতি বলেই দিচ্ছেন, 'নন্দীগ্রাম বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচন কেন্দ্র। ওখানে আমাদের জেতার কোনও সুযোগই নেই। রাজ্য সরকার গুন্ডা দমন আইনের নামে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চায়। তাই ভয়ে কেউ আর প্রকাশ্যে তৃণমূলও করতে চাইছেন না।'  

এর আগে একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানকে প্রার্থী হওয়ার দেওয়া হয়েছিল বলে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর। শেখ সুফিয়ানের কথায়, 'রাজ্য নেতৃত্ব চাক আর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চাক, প্রার্থী হওয়ার মানসিকতা আমার হারিয়ে গিয়েছে। কারণ আমি ২০০৬ সালে লড়াই করেছিলাম। তারপর থেকে প্রার্থী করার জন্য দল ভাবেনি। আজ ভাবলে তো আর সেই জায়গায় আমি পা দেব না। অতএব প্রার্থী তো দূরের কথা, আমি অবসরের জন্য এবার প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছি। আমার মেয়েরা, স্ত্রী, জামাই, সবাই বলছে, আর রাজনীতি করতে হবে না। যথেষ্ট সম্মান পেয়েছো।'

POST A COMMENT
Advertisement