RSS সদস্যকে তৃণমূলের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শাসানিভোট যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে রাজ্যে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে অশান্তির খবর। এরমধ্যেই বীরভূমের নানুরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। RSS সদস্যকে তৃণমূলের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শাসানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ, আরএসএসের স্বয়ংসেবক ও বিজেপি কর্মী রিন্টু পালকে জোর করে বালিগুনি এলাকার তৃণমূলের পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির উপস্থিতিতে তাঁকে গ্রামবাসীদের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। গ্রামে থাকতে গেলে RSS বা বিজেপি করা চলবে না বলে রিন্টু পালকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার ভিডিও (আজতক বাংলা ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি) ভাইরাল হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেই যুবককে হাত জোড় করে বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। ক্যামেরার অপরপ্রান্তে থাকা এক যুবককে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'আর জীবনে RSS-BJP পার্টি করবি?' তিনি হাতজোড় করে বলছেন, 'আমি জীবনে আর RSS করব না, বিজেপি করব না।'এখানেই শেষ নয়, ওই যুবককে দিয়ে আবার সামনে জড়ো হয়ে থাকা একাধিক ব্যক্তির সামনে ক্ষমাও চাওয়ানো হয়। তিনি সবার কাছে ক্ষমাও চান। আবার ক্যামেরার অপর প্রান্তে থাকা ওই যুবক বলেন, 'তোর কপাল ভাল যে আজকে ছেড়ে দিলাম। না হলে মানুষের হাতে তুলে দেব, ছিঁড়ে খেয়ে নেবে।'
অভিযোগ, প্রায় ২৫-২৬ জন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ রিন্টু পালকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। পাশাপাশি আরএসএস বা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি। আরএসএস বা বিজেপির কোনও কার্যকলাপে যুক্ত না থাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ> এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা আঙ্গোরা গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির তরফে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারির দাবি জানানো হয়েছে।
বোলপুর বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, 'প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন বাইকে করে আমাদের বিজেপি কর্মীকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যায়। জীবনের ভয়ে তিনি হাত জোড় করে বলে যে সে আর বিজেপি বা আরএসএসের হয়ে কাজ করবেন না। এই পরিস্থিতিতে তাঁর কাছে আর কোনও বিকল্প ছিল না। একটি সভ্য দেশে এমন ঘটতে পারে না। এই ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণ জনগণ মেনে নেবে না।' অন্যদিকে, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কোর কমিটির সিনিয়র সদস্য কাজল শেখের বক্তব্য, 'আমি ঘটনার সত্যতা যাচাই করিনি। তবে, আমি শুনেছি যে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। যদি কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়, তাহলে আমি নিশ্চিত করব যে দলীয় পর্যায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি পুলিশ প্রশাসনকেও দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলব।'