পুরুষ হয়েও নিচ্ছিলেন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের' টাকা, বহরমপুরের সেই রাকিবুল গ্রেফতার

প্রশাসন সূত্রে খবর, সম্প্রতি নতুন ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর সময় বিভিন্ন উপভোক্তার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে রাকিবুলের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাওয়ার তথ্য সামনে আসে। তদন্তে উঠে আসে, বহরমপুর এলাকার শিয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা রকিবুল গত প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিতভাবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন। অথচ এই প্রকল্প শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত।

Advertisement
পুরুষ হয়েও নিচ্ছিলেন 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের' টাকা, বহরমপুরের সেই রাকিবুল গ্রেফতার গ্রেফতার রাকিবুল
হাইলাইটস
  • পুরুষ হয়েও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিচ্ছেন বহরমপুরের বাসিন্দা রাকিবুল শেখ
  • তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ

পুরুষ হয়েও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিচ্ছেন বহরমপুরের বাসিন্দা রাকিবুল শেখ। তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আজ বুধবার 'অন্নপূর্ণা যোজনার' ফর্ম প্রকাশের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাকিবুলের কথা তুলে ধরেন। তারপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রশাসন সূত্রে খবর, সম্প্রতি নতুন ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর সময় বিভিন্ন উপভোক্তার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে রাকিবুলের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাওয়ার তথ্য সামনে আসে। তদন্তে উঠে আসে, বহরমপুর এলাকার শিয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা রকিবুল গত প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিতভাবে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন। অথচ এই প্রকল্প শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত।

সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কীভাবে একজন পুরুষের নামে এই প্রকল্প অনুমোদিত হল এবং কীভাবে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছতে থাকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রকিবুল শেখ স্থানীয়ভাবে একটি ছোট খাবারের দোকান চালান বলে। পুলিশের জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন যে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা আসত। তবে তাঁর দাবি, তিনি কখনও এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেননি। রকিবুল বলেন, 'কীভাবে টাকা আসা শুরু হয়েছিল আমি জানি না। তখন আমার টাকার খুব প্রয়োজন ছিল, তাই কাউকে জানাইনি। অনেকেই বলেছিল টাকা যখন আসছে তখন রেখে দিতে। তবে এখন বুঝতে পারছি এটা ভুল হয়েছে। BDO অফিসে জানালেও তাদের তরফে কোনও উত্তর মেলেনি। আমি এই টাকা দিতে বারণ করেছিলাম,অথচ বন্ধ হয়নি।' 

নিজে এই প্রকল্পের টাকা নিলেও এখন সরকারকেই দায়ি করছেন রাকিবুল। তাঁর কথায়, 'এর জন্য দায়ি তো সরকার। একটা ছেলের অ্যাকাউন্টে টাকা কীভাবে আসছে, সেটা তো সরকারেরই দেখার দরকার। কীভাবে দুর্নীতি হল জানি না।'  

এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পঞ্চায়েতের হাতে এই প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা নেই। তাঁদের মতে, ব্লক প্রশাসন বা ব্যাঙ্ক ভেরিফিকেশন স্তরেই গাফিলতি বা দুর্নীতি হয়েছে।

Advertisement

অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে রাজ্যের কল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতির বড় উদাহরণ বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাবের কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে।

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রকিবুল শেখ এবং তাঁর স্ত্রী সুলতানা পারভিন বর্তমানে স্থানীয় ভোটার তালিকায় নেই। তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁরা ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন।

পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি সরকারি কর্মীদের যোগসাজশে বড়সড় দুর্নীতির ঘটনা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

POST A COMMENT
Advertisement