
স্কুলের মাঠ উদ্ধার করল ছাত্ররাই -- নিজস্ব ছবিসরকারি স্কুলের জমি জোর করে দখল করে নিয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। চড়া দামে বিক্রি করে দিয়েছিল দোকানদারদের। এবার সেই জমি নিজেরাই উদ্ধার করল ছাত্ররা। ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে সব গুঁড়িয়ে দিল খুদে পড়ুয়ারা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের ঘটনা।
রায়বাঘিনী হাইস্কুলের ছাত্রদের অ্যাকশন ভাইরাল
ক্যানিংয়ের সরকারি স্কুল রায়বাঘিনী হাইস্কুলের ছাত্রদের অ্যাকশন ভাইরাল। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ হকার, বস্তি তুলতে দিকে দিকে চলছে বুলডোজার অ্যাকশন। রাতারাতি বুলডোজারে সাফ করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যা ঘটল, তা একেবারে নজিরবিহীন। বুলডোজার নয়, স্কুল জমি অবৈধ দখলকে লাঠি, বাঁশ দিয়ে ভেঙে নিজেরাই স্কুলের মাঠ ফিরিয়ে আনল ছাত্ররা। একেবারে খুদে থেকে দ্বাদশের ছাত্র, সবাই মিলে একসঙ্গে স্কুলের জমিতে গজিয়ে ওঠা সব দোকান গুঁড়িয়ে দিল।

খেলার মাঠ চলে গিয়েছিল অবৈধ দোকানদের দখলে
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রায়বাঘিনী স্কুলের মাঠের একটা বড় অংশ জোর করে কেড়ে নিয়েছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। এই দখলের পিছনে প্রাক্তন বিধায়ক পরেশরাম দাসের প্রত্যক্ষ মদত ছিল বলেও দাবি তাঁদের। সরকারি স্কুলের জমি কেড়ে নিয়ে তা একাধিক দোকানদারকে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে স্কুল পড়ুয়াদের খেলার মাঠ চলে গিয়েছিল অবৈধ দোকানদের দখলে। স্কুলের তরফে এই বিষয়ে বহু বার প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও রকম পদক্ষেপ করা হয়নি। উল্টে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা শিক্ষক ও ছাত্রদের হুমকি দিত।

ছাত্ররাই দোকানগুলি ভেঙে স্কুলের জমি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে
প্রশাসনের তরফ থেকে সাড়া না মেলায় এবার নিজেরাই আসরে নামল স্কুলের পড়ুয়ারা। লাঠি, বাঁশ নিয়ে একের পর এক দোকানে শুরু হল ভাঙচুর। একেবারে সব গুঁড়িয়ে দিল ওরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যুব তৃণমূল নেতা জয়ন্ত ঘরাইয়ের নেতৃত্বে দখল করে রাখা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের ভয়ে বহু বছর ধরে কেউ স্কুলের জমি উদ্ধার করার সাহস পাননি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ওই যুব তৃণমূল নেতা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

সেই সুযোগেই স্কুলের পড়ুয়ারা উদ্যোগ নিয়ে স্কুলের জমিতে তৈরি হওয়া অবৈধ দোকানগুলি ভাঙতে শুরু করে। বাঁশ ও লাঠি হাতে নিয়ে ছাত্ররাই দোকানগুলি ভেঙে স্কুলের জমি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা অন্য কোনও শিক্ষক প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা শুধু সরকারি জমিই নয়, স্কুলের জমিও দখল করে রেখেছিল। তাঁদের দাবি, প্রশাসনও কার্যত তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। সেই কারণেই অতীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই ছাত্রছাত্রীরাই নিজেদের স্কুলের জমি উদ্ধারে নেমেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের কোনও নেতা প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।