শুভেন্দু অধিকারীর মাBJP ক্ষমতায় এলে মাছ ভাত খেতে দেবে না বলে অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে পরাজিত করে যিনি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসলেন, সেই শুভেন্দু অধিকারীর সবচেয়ে পছন্দ ইলিশ মাছ। চিকেনও ভালোবাসেন তিনি। জানালেন খোদ শুভেন্দুর মা গায়ত্রী অধিকারী। ছেলের জন্য গত ৫ বছর আতঙ্কে ছিলেন তিনি। কেন?
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বরাবরই তাঁর অনুপ্রেরণা বাবা শিশির অধিকারী। মা বলেন, 'শুভেন্দুর বাবাই ওঁর অনুপ্রেরণা। বাবাকে দেখেই ও লড়াই করা শিখেছে। ওঁর বাবা যেভাবে একা CPIM-এর সঙ্গে লড়েছে, সেটা দেখেই বড় হয়েছে।' চার ছেলের মধ্য শুভেন্দু অধিকারীর বাড়ির মেজো। বাবা আদর করে তাঁকে 'বুড়ি' বলে ডাকেন। বাবা শিশির অধিকারীর কথায়, 'অত্যন্ত দক্ষ, পরিশ্রমী ছেলে। মানুষ চেনার অদ্ভূত ক্ষমতা রয়েছে ওঁর।'
রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র শুভেন্দু ছোটবেলা থেকে বড়ই শান্ত। সাত চড়ে রা কাড়তেন না তিনি। সেই ছোট ছেলেটাই হয়ে উঠল জেদি, লড়াকু। ঠাকুর ভক্ত শুভেন্দু স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে আকর্ষিত হয়েছিলেন। আবার বাড়িতে মহারাজরাও আসতেন।
BJP এলে বাঙালির খাওয়া-দাওয়ায় কোপ পড়বে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, BJP মাছ-ভাতের বিরোধী। মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে বলেও লাগাতার প্রচার করছিলেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই ছিনিয়ে আনা শুভেন্দু নিজেই ভালোবাসেন নানারকম মাছ খেতে। আর ভালোবাসেন পান্তা ভাত।
গায়ত্রী অধিকারী বলেন, 'শুভেন্দু পান্তাভাত খেতে বড়ই ভালোবাসে। কাজ সেরে রাতে বাড়ি ফেরার সময়ে আমাকে বলে রাখত, মা ভাতে জল ঢেলে রাখ। গরম ভাতেই জল ঢেলে খেত ও। সঙ্গে কখনও মাছ ভাজা, কখনও আলুভাজা কিংবা আলুসিদ্ধ। পোস্ত, ডিমের অমলেট, মৌরলা মাছ, পোনা মাছ, ইলিশ মাছ পছন্দ করে শুভেন্দু। চিকেনও খেতে ভালোবাসে ও।'
ছেলের থেকে কী প্রত্যাশা করছেন মুখ্যমন্ত্রীর মা? গায়ত্রী অধিকারী বলেন, 'ওর যা মনে আছে, তা-ই করুক। তবে আমাদের কাছে এখনও প্রকাশ করেনি। তবে আমি জানতে পেরে যাব। যাঁদের জন্য লড়াই করেছে, তাঁদের জন্যই কাজ করুক। গত ৫ বছর ধরে তো অনেক লড়াই করেছে। ৫ বছরে জীবনটা হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।' ৩ বার তাঁর প্রাণ সংশয় হয়ে গিয়েছিল বলেও জানালেন তিনি।
তবে ছেলের কাছে আরজি করের নির্যাতিতার ন্যায়বিচার দ্রুত আনার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর মা।