মতুয়াদের জন্য় আর কী কী ঘোষণা শুভেন্দুর?দ্বিতীয় বর্ষ আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলন শুরু হল ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে৷ সেই সম্মেলনে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একাধিকবার এলেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম ঠাকুরবাড়িতে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দুপুর একটা নাগাদ ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি হেলিকপ্টারে গাইঘাটার চাঁদপাড়া এলাকায় একটি মাঠে করা হেলিপ্যাডে নামেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তুনুর বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর-সহ মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান।
হেলিপ্যাড থেকে যশোর রোড এবং চাঁদপাড়া-ঠাকুরনগর সড়ক ধরে প্রায় আট কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম আগমনে শুভেন্দুকে ডঙ্কা-নিশান নিয়ে স্বাগত জানানো হয়। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী, হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে, পরে গুরুচাঁদ মন্দিরে পুজো দেন। সেখান থেকে নাটমন্দিরে যান আন্তর্জাতিক মতুয়া গোসাঁই সম্মেলনের মঞ্চে। সেখান থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
মতুয়া সমাজকে বিভক্ত করার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার মতুয়াদের জন্য কিছুই করেনি। এমনকী সিএএ-র বিরোধিতা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে রাষ্ট্রবাদী সরকার তৈরির কাজে মতুয়াদের অবদান স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য গোটা মতুয়া সমাজকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে মতুয়া সমাজের উপর ব্যাপক অত্যাচার হয়েছে। মতুয়া সমাজকে বিভক্ত করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পরিবারকে ভেঙেছেন। সিএএ-র বিরোধিতা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের উন্নয়ন করতে দেননি। তিনি মতুয়া পরিবারকে ভেঙেছেন। মতুয়াদের বিভক্ত করেছেন। বরঞ্চ সিএএ-র প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করেছেন। তাই আমি এখানে এসে মতুয়াদের জন্য কিছু করতে এসেছি। কিছু ঘোষণা করব। মতুয়াদের জন্য কিছু করতে পারা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।'
মতুয়াদের জন্য ঘোষণা
ঠাকুরনগরে গিয়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মতুয়াদের উদ্দেশে বলেন, ‘রাজ্যের ৭০ টি বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়ারা আমাদের জয়ী করেছেন। এই সরকার আপনাদের সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো ঠাকুরবাড়িকে বিভাজন করতে দেব না। বনগাঁ রানাঘাট বারাসতের জেলে যদি এমন কোনও মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষ থাকেন, যিনি বিনা বিচারে জেল খাটছেন, তাহলে আমরা তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করব। জমি দেব। বাড়ি তৈরি করে দেব।’ পাশাপাশি তাঁর আশ্বাস, ‘মতুয়া বোর্ড পুনর্গঠন করে মতুয়াদের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। আপনারা যে কোনও প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন। নিশ্চিত থাকুন। কাজ হয়ে যাবে।’ আগামী বাজেটে ঠাকুরনগর পুরসভা হিসেবে ঘোষিত হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরে নতুন মন্দির নির্মাণ এবং বড়মা বীণাপাণি দেবীর নামে হাসপাতালের প্রতিশ্রুতিও এদিন দেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন আগামী ছমাসের মধ্যে চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র ১০০ বের্ডের করা হবে এবং তা বড়মার নামে উৎসর্গ করা হবে।