ডান হাতে গদা, বাম হাতে চক্র! পুকুর খনন করতে গিয়ে উদ্ধার হাজার বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি

পুকুর সংস্কার করার সময় উদ্ধার হল ১০০০ বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি। জানা গিয়েছে, একটি আর্থ রিমুভার মেশিন দিয়ে খননকার্য চলছিল ওই পুকুরটিতে। সেই সময় পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটি মূর্তি।

Advertisement
ডান হাতে গদা, বাম হাতে চক্র! পুকুর খনন করতে গিয়ে উদ্ধার হাজার বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তিপুকুর খনন করতে গিয়ে উদ্ধার হাজার বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি
হাইলাইটস
  • পুকুর সংস্কার করার সময় উদ্ধার হল ১০০০ বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি।
  • একটি আর্থ রিমুভার মেশিন দিয়ে খননকার্য চলছিল ওই পুকুরটিতে।
  • সেই সময় পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটি মূর্তি।

পুকুর সংস্কার করার সময় উদ্ধার হল ১০০০ বছরের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি। জানা গিয়েছে, একটি আর্থ রিমুভার মেশিন দিয়ে খননকার্য চলছিল ওই পুকুরটিতে। সেই সময় পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটি মূর্তি। সেটি দেখেই বহু প্রাচীন বলে মনে হয় এবং সেই মূর্তি বিষ্ণুমূর্তি বলেই মনে করেন গ্রামবাসীরা। এরপর তাঁরা মূর্তিটি সযত্নে তুলে পরিষ্কার করে একটি মন্দিরে রেখে দেন। এদিকে মূর্তি উদ্ধারের খবর থানায় পৌঁছতেই পুলিশকর্মীরা গ্রামে পৌঁছান। মূর্তিটি থানায় নিয়ে আসা হয়। সেই সঙ্গেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে  পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়ল গ্রামে।  

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার সঙ্গে যুক্ত শ্যামসুন্দর বেড়া জানান,উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি একাদশ শতকের। প্রায় এক হাজার বছরের প্রাচীন। কালো ব্যাসল্ট (Basalt) পাথরে খোদিত মূর্তিটি উচ্চতায় ৩১ ইঞ্চি  এবং প্রস্থে ১৫ ইঞ্চি। মূর্তিতত্ত্বের ব্যাখ্যা অনুসারে, এই দুই চিহ্ন নির্দেশ করে যে মূর্তিটি বিষ্ণুর ত্রি-বিক্রম শৈলীর। মুখমণ্ডল আর সামনের দুটি হাত ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। উপরের ডান হাতে আছে গদা এবং বাম হাতে আছে চক্র।  এছাড়া বাম দিকে চক্রপুরুষ ও ডানদিকে শঙ্খপুরুষ। পাদানি অংশে দু'দিকেই আছেন বিষ্ণুর বাহন গরুড়। মূর্তির সামগ্রিক অলঙ্করণ এবং পাথর খোদাইয়ের সূক্ষ্ম রীতি বিচার করলে একে অনায়াসেই দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর পাল কিংবা সেন আমলের শিল্পশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। 

মূর্তির দেহভঙ্গি ‘সমভঙ্গ’ মুদ্রায় বিন্যস্ত, অর্থাৎ ভগবান এখানে সোজা হয়ে দণ্ডায়মান, যা ওই সময়ের ভাস্কর্যে দৈব গাম্ভীর্য প্রকাশের একটি প্রধান মাধ্যম ছিল। পাল-সেন যুগের মূর্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সূক্ষ্ম গহনার অলঙ্করণ। এখানেও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খোদাই করা হার, যজ্ঞোপবীত (পৈতা) এবং মস্তকের সুউচ্চ কিরীটমুকুট, যা প্রাচীন বাংলার উৎকৃষ্ট শিল্পবোধের পরিচায়ক। চতুর্ভুজ এই বিষ্ণু মূর্তিটির উপরের ডান হাতে কৌমোদকী গদা এবং উপরের বাম হাতে সুদর্শন চক্র রয়েছে। যদিও বাম হাতের একটি অংশ এই খননের সময় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisement

মেমারি থানার পক্ষ থেকে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে প্রাচীন মূর্তিটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়াম  কর্তৃপক্ষ শ্যামসুন্দর বেরার হাতে তুলে দেওয়া হয় সংগ্রহশালায় সংরক্ষণের জন্য । বর্তমানে মূর্তিটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় আনা হয়েছে।
 

- সুজাতা মেহেরা

POST A COMMENT
Advertisement