
টিনা ভৌমিক সাহা ও সব্যসাচী দত্তবিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয় ও তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতার হওয়ার পরেই চর্চায় উঠে আসে টিনা ভৌমিক সাহার নাম। সব্যসাচীর তোলাবাজি, হুমকি সহ বিপুল দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ খোঁজ পায় সোনার খনির। নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে উদ্ধার করা হয় ৩ কেজি সোনা। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা।
টিনার বাড়িতে উদ্ধার হয়েছিল ৩ কেজি সোনার গয়না
এরপরেই টিনা চলে আসেন খবরের শিরোনামে। জানা যায়, এই সব্যসাচীর বেশ ঘনিষ্ঠ টিনা। বিশেষ বান্ধবী বলেও অনেকে দাবি করেন। সূত্র ধরেই দেখা যায়, শুধু নিজেই নন, প্রভাব খাটিয়ে ঘনিষ্ঠদেরও সোনা কিনতে সাহায্য করেছেন সব্যসাচী। তদন্তের সূত্র ধরেই টিনার বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চলে।

এক তদন্তকারী অফিসার জানান, সব্যসাচী দত্তের স্ত্রীর কাছে ওতো সোনার গয়না নেই, যত রয়েছে টিনার কাছে রয়েছে। সেই সব বহুমূল্য গয়না সব্যসাচীই নাকি গিফট করতেন। গত মাসের ২২ তারিখ গভীর রাতে নদিয়ার তেহট্টে তল্লাশি গত মাসের ২২ তারিখ গভীর রাতে নদিয়ার তেহট্টে তল্লাশি চালিয়েছিল বিধাননগর পুলিশ। সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়ে নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।

'আমি কার বান্ধবী? এই বান্ধবী আখ্যা দেওয়াটা বন্ধ করুন'
আর এই বান্ধবী তত্ত্বেই একেবারে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন টিনা। সংবাদমাধ্যমের উপর ক্ষোভ উগরে টিনার মন্তব্য, 'আমি কার বান্ধবী? এই বান্ধবী আখ্যা দেওয়াটা বন্ধ করুন।' এমনকী ৩ কেজি সোনা পাওয়ার ঘটনা নিয়েও 'বড় গলা' টিনার। রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে বলছেন, 'আগে ঠিক করে নিন সাড়ে তিন কেজি না তিন কেজি সোনা। আপনারা তো সূত্র মারফত আমাকে বান্ধবীও দেখাচ্ছেন।'

'মিডিয়ারও তো উচিত খতিয়ে দেখা, আসলে সম্পর্কটা কী?'
তাঁর কথায়, 'আমি কার বান্ধবী? এই বান্ধবী আখ্যা দেওয়াটা বন্ধ করুন। প্রত্যেকে রাজনীতি করে, কেউ না কেউ তার আদর্শ থাকে। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে রাজনীতি করতাম। প্রত্যেকটা দলের নেতা যদি কোনও রকম দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, আর তাদের নীচের কর্মীরা যদি বান্ধবী হয়ে যায়, এই জিনিসটা তো ভুল। মিডিয়ারও তো উচিত খতিয়ে দেখা, আসলে সম্পর্কটা কী? এই ভাবে বান্ধবী বলে আখ্যায়িত করে দেওয়া, এই বিষয়টির আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি একজন শিক্ষিকা। একজন মহিলা। সম্মানের সঙ্গে চাকরি করি। মাথা উঁচু করে সমাজে চলি।'