তৃণমূল নেতা অভিজিত্ সিনহাঅনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবেই বীরভূমে পরিচিতি। অনুব্রতর পাশে সর্বদাই তাঁকে দেখা যায়। বীরভূমের সেই দাপুটে তৃণমূল নেতা এবার বেসুরো। শুধু তাই নয়, বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটি থেকেও ইস্তফা দিলেন। তিনি অভিজিত্ সিনহা।
বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ভাঙন
তৃণমূল কংগ্রেসে গৃহদাহ চলছে। জেলায় জেলায় নেতাদের পদ ছাড়ার হিড়িক। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করছেন। কাউকে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এহেন পরিস্থিতিতে বীরভূমেও প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ আরও প্রকট হচ্ছে। এবার বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন লাভপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরও কোর কমিটি নিজেদের ভূমিকা নিয়ে কোনও পর্যালোচনা করেনি, ফলে কর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভিজিৎ সিনহা জানান, ফল প্রকাশের প্রায় একমাস কেটে গেলেও কোর কমিটির পক্ষ থেকে একটি বৈঠকও ডাকা হয়নি। তাঁর কথায়, 'বীরভূমে দীর্ঘদিন জেলা সভাপতি না থাকায় কোর কমিটিই সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময় সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।'
কী বলছেন অভিজিত্ সিনহা?
তিনি বলেন, 'দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীরাই কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াই করে জেলার পাঁচটি আসনে জয় এনে দিয়েছেন। অথচ তাঁদের সামনে পরাজয়ের কারণ ব্যাখ্যা করার মতো কোনও জবাব নেতৃত্বের কাছে নেই।' সেই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি কোর কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
প্রকাশ্যেই কোর কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
গরু পাচার মামলায় জেলবন্দি হওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমের সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য কোর কমিটি গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন অভিজিৎ সিনহা। কিন্তু চলতি বিধানসভা নির্বাচনে লাভপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার কাছে পরাজিত হওয়ার পর এবার প্রকাশ্যেই কোর কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।
আগামী মঙ্গলবার বীরভূম সফরে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সফরের ঠিক আগে এই পদত্যাগ জেলা তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি ও জল্পনা তৈরি করেছে।