নামখানায় কাটমানির টাকা ফেরততৃণমূল কংগ্রেস দলটি যে গলা পর্যন্ত দুর্নীতিতে ডুবে ছিল, রাজ্যজুড়ে নেতাদের তোলাবাজি, কাটমানি রমরমিয়ে চলছিল, তার নিদর্শন মিলছে জনরোষেই। এবার জনতার চাপে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হল নামখানার এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা।
নামখানায় কাটমানি ফেরত দিচ্ছে তৃণমূল নেতারা
সম্প্রতি বিজেপি-র তরফে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার স্থানীয় নেতারা গ্রামবাসীদের থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা ফেরত দিচ্ছেন। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৪৫টি পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছিল ওই তৃণমূল নেতারা।
আবাস প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল
বস্তুত, এই ধরনের ঘটনা শুধু নামখানাতেই চলছে না। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কাটমানি খাওয়ার যে ট্র্যাডিশন রমরমিয়ে চলেছে ১৫ বছর ধরে, এবার তার খেসারত দিতে হচ্ছে সেই সব নেতাদের। কোথাও কাউন্সিলরকে রাস্তায় মারধর করা হচ্ছে, কোথাও আবার জনতার চাপে কাটমানির টাকা ফের দিচ্ছে নেতারা নিজেরাই। দিন দুয়েক আগেই যেমন কোচবিহারের ঘুঘুমারিতে কাটমানির টাকা ফেরতের কথা জানিয়ে মাইকে প্রচার করা হয় স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য়ের তরফে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, আবাস প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য় জ্যোৎস্না বর্মন।
গত ২৭ মে ইসলামপুরেও একই ঘটনা ঘটে। ইসলামপুরের সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নুর ই বেগমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বহু মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া হয়। এই অভিযোগে অতীতেও একাধিকবার আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মমতার হুঁশিয়ারিতে কান দেননি দলের নেতারা
২০২১ সালের আগেই থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার রাশ যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ধীরে ধীরে চলে যেতে শুরু করে, তার প্রমাণ এই কাটমানি। মমতা একাধিকবার কাটমানি ইস্যুতে নেতাদের গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভোটের আগে। কিন্তু কেউই কান দেননি দলনেত্রীর কথায়। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় মমতা বলেছিলেন, 'কেউ দলের নাম করে টাকা তুললে তাঁকে গ্রেফতার করিয়ে দেব। প্রশাসন কঠোর হাতে এর মোকাবিলা করবে। যারা এই ভাবে টাকা তোলে, তারা নিজের জন্য তোলে। এই টাকা কারও কাছে যায় না। আমি খুব স্পষ্ট করে বলছি, কেউ কাউকে একটাকাও দেবেন না। দল কারও থেকে কোনও টাকা নেয় না।'