Bay Of Bengal Cyclone Update: ২৮ অক্টোবর আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়, বাংলায় কতটা প্রভাব? বড় আপডেট দিল IMD

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর সকালে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে অনুভূত হতে পারে। ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অনেক এলাকায় বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস বইবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement
 ২৮ অক্টোবর আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়, বাংলায় কতটা প্রভাব? বড় আপডেট দিল IMD ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর সকালে বঙ্গোপসাগরে  নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে অনুভূত হতে পারে। ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০  অক্টোবরের মধ্যে অনেক এলাকায় বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস বইবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে, ঝড়টি ঠিক কোথায় স্থলভাগে আঘাত হানবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই আবহাওয়া সিস্টেমটি ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই এলাকাগুলিতে বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়া সিস্টেমটির গতিপথ এবং শক্তি সম্পর্কে আরও তথ্য আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে।

এই সিস্টেমটি কীভাবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি ২৪  অক্টোবরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে এবং ২৫ অক্টোবরের মধ্যে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর ২৬ অক্টোবরের মধ্যে এটি আরও তীব্র হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলের দিকে অগ্রসর হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে, ঝড়টি ঠিক কোথায় স্থলভাগে আঘাত হানবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

 

ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
এই সিস্টেমের  প্রভাব উপকূলীয় ওড়িশা এবং অন্ধ্র প্রদেশে অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। IMD-র মতে, ২৩ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশ এবং ইয়ানামের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ২৬ অক্টোবর থেকে ওড়িশায় বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে ২৯  অক্টোবরের মধ্যে অনেক জায়গায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এই সময়ে প্রবল বাতাসও বইতে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই প্রবল বাতাসে গাছপালা উপড়ে যেতে পারে, বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে যেতে পারে এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে।

Advertisement

মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
আবহাওয়া দফতর বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে তীব্র বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। মৎস্যজীবীদের প্রভাবিত উপকূলীয় এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা সমুদ্রে যাচ্ছেন, তাদের মৌসম বিভাগেকর  এই সতর্কবার্তা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি কোথায় আঘাত হানবে বা এটি কতটা শক্তিশালী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী কয়েকদিনে এর দিক ও শক্তি পরিবর্তিত হতে পারে। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ তথ্যের জন্য আবহাওয়া দফতরের আপডেটের ওপর নজর রাখা উচিত। ভারী বর্ষার সময় জলমগ্ন রাস্তা এড়িয়ে চলুন এবং প্রবল বাতাসের সময় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে থাকুন।

 

বাংলায় এর প্রভাব
২৬ অক্টোবর সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা হবে, উপকূলবর্তী এলাকায় মেঘলা আকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতার এক-দু’টি জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া-সহ বজ্রবিদ্যুৎ হতে পারে। ২৮ অক্টোবর বুধবার থেকে বৃষ্টি ও দুর্যোগের ব্যাপকতা বাড়তে পারে। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ ৭০-১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই অনেক জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ২৭ অক্টোবর থেকে সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। সমুদ্রতীরে জয় রাইড ও বিনোদনমূলক জলক্রীড়া বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি
২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। ২৮ অক্টোবর বুধবার সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা হতে পারে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

POST A COMMENT
Advertisement