ত্বহা সিদ্দিকি বকরি ইদে কুরবানি নিয়ে এবার মুখ খুলল পশ্চিমবঙ্গের ফুরফুরা শরিফ। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি মুসলিমদের উদ্দেশে আবেদন করে বলেছেন, 'এই বছর গরুর কুরবানি নয়, আমি সকলের কাছে আবেদন করছি গরু না কিনতে।'
গরু কোরবানি সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, 'নির্দেশিকা মেনে গরু কুরবানি দেওয়া একটি কঠিন প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। তাই কোনও রকম বিতর্ক বা সমস্যায় না জড়িয়ে এবং কুরবানির দিন যাতে কোনও বাধা বা অশান্তি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এ বছর গরু কুরবানি থেকে বিরত থাকার আবেদন জানাচ্ছি।'
ত্বহা সিদ্দিকি গরুর পরিবর্তে ছাগল বা অন্যান্য পশু কুরবানি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ভারত থেকে বিদেশে গোমাংস সফতানি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, 'ভারত গোমাংস রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আমাদের হিন্দু ভাইদের কারখানায় গরু কাটা হয় এবং তা রফতানি করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনও আইন প্রযোজ্য হয় না।'
সামনেই বকরি ইদ। একে কুরবানির ইদও বলা হয়ে থাকে। কারণ ইসলামিক প্রথা অনুযায়ী, ওই পরবের দিন পশু জবাই করে তা কুরবানি দেওয়া হয়। এদিকে, রাজ্যে BJP সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকাশ্যে পশু জবাই নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারি নির্দেশিকা কি মানা হবে বকরি ইদের দিন?
অসুস্থ, ১৪ বছরের ঊর্ধ্ব প্রাণী হতে তবেই জবাই করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। তা-ও সরকার অনুমোদিত স্থানে, প্রকাশ্যে নয়। এ প্রসঙ্গে নিয়মের খানিকটা শিথীলতা চাইছে নাখোদা মসজিদ। নাসিক ইব্রাহিমের কথায়, '১৯৫০ সালের আইন এটি। জবাইয়ের আগে সার্টিফিকেট জোগাড় করতে হবে, আর জবাই কসাইখানায় করতে হবে। এই নিয়ম ছিল। জায়গায় জায়গায় কসাইখানা বানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। এমনটা আগের সরকার করেনি। তবে আমরা চাইব আইনে সামান্য অনুমোদন করে ওই একটি পরবের দিন ১৪ বছরের ঊর্ধ্ব প্রাণী জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হোক। কারণ কম বয়স ছাড়া গরু বিক্রিই হয় না।'