তীব্র গরমের মাঝেই স্বস্তির বৃষ্টি
সারা দেশে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি। প্রখর সূর্যের তেজ। আগামী দিনগুলিতে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং গরম কমবে কি? উত্তরটি হলো 'না'। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD) এই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়েছে। IMD বলছে, পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে সৃষ্ট একটি একটানা তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে সমগ্র উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং মধ্য ভারত। জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডেও তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই সপ্তাহ জুড়ে উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতে এবং আগামী ৫ দিন পূর্ব ভারতে তাপপ্রবাহ থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এরমধ্যেই অসহ্য গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য রয়েছে স্বস্তির খবর। বিকেল গড়াতেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্কতা জারি হয়েছে।
কেবল কলকাতা নয়, বৃষ্টি হতে পারে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা জুড়ে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিকেলের পর শহরের কিছু এলাকায় র্বজ্র-বিদ্যুৎ সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা এবং পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, নদিয়ায় কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায় এবং আগামী শুক্রবার বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ঝড়বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা জারি রয়েছে।
অন্যদিকে আগামী তিনদিন উত্তরবঙ্গের সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। এর মধ্যে আগামী বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী শুক্রবার দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী শনিবারেও এই পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আগামী রবিবার ও সোমবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মণিপুর পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যা এই আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রধান কারণ। আগামী কয়েকদিন রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির ৪০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকছে।