সপ্তাহান্তে কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া?শক্তি হারিয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। যার প্রভাবে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর মধ্যে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে সৃষ্টি হয়েছে আরও একটি নিম্নচাপ। এই অবস্থায় আগামী কয়েকদিন কেমন থাকবে বাংলার ২৩ জেলার আবহাওয়া? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই আপডেট।
বৃষ্টির পূর্বাভাস
অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর ধাক্কায় অন্ধ্রপ্রদেশ বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । যদিও পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে প্রভাব পড়েনি । তবে বৃষ্টি যেন বাংলার পিছু ছাড়তেই চাইছে না। বৃহস্পতিবার বাংলার জেলায় জেলায় দুর্যোগের পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি হারিয়েছে। আজ সারাদিনই দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
আজ বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে । দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । সঙ্গে ৩০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাদবাকি জেলাগুলিতেও ঝড় বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায় অনেক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার মূলত শুষ্ক আবহাওয়াই থাকবে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
আজ উত্তরবঙ্গের সব জেলার বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে । দার্জিলিং, জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা । শুক্রবারও সব জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে । দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা । পার্বত্য এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে । ৩০ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির এক বা দু'টি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে।
৩০ অক্টোবরও দুর্যোগের আশঙ্কা
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবরও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের এক বা দু'টি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দুর্যোগের সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর কেমন থাকবে আবহাওয়া?
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলার বেশ কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এই জেলাগুলির এক বা দু'টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ৩১ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টির নির্দিষ্ট সতর্কতা ছবিতে উল্লেখ করা হয়নি।
কলকাতাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস
বৃহস্পতিবার কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হয়েছে। ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাকি এলাকায় রাতের দিকে অথবা শুক্রবার সকালে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
কবে কাটবে দুর্যোগ?
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। ওই দিন পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলা এবং উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩১ অক্টোবর বিকেলের পর সামগ্রিক ভাবে বাংলার আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে।
এ দিকে, ২ বা ৩ নভেম্বর আন্দামান সাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি তামিলনাড়ুর দিকে এগোতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আপাতত নেই।
বাংলায় কমবে তাপমাত্রা
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলায় সামান্য কমবে গরম। জেলায় জেলায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে। বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতার পারদ সামান্য নিম্নমুখী হবে বলে পূর্বাভাস আলিপুর হাওয়া অফিসের। যদিও বাংলায় শীত আসতে এখনও দেরি রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি গভীর রাতে ও ভোরে শীতের শিরশির ভাব অনুভূত হচ্ছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটলে ফের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বঙ্গোসাগরে নতুন নিম্নচাপ
একটা ঘূর্ণিঝড় যেতে না যেতেই বঙ্গোসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হল। দেওয়া হল গভীর নিম্নচাপের সতর্কতাও। আপাতত যা ইঙ্গিত, তাতে সেটির অভিমুখ হবে ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকেই। এমনকী কয়েকটি মডেলে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনই সেরকম সতর্কতা জারি করা হয়নি ভারতীয় মৌসম ভবনের তরফে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এত তাড়াতাড়ি কিছু বলা সম্ভব নয়। তাতে অহেতুক আতঙ্ক তৈরি হয়।