রবিন ভট্টাচার্য, কাউন্সিলর কাউন্সিলের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যু। মারাত্মক অভিযোগ ব্যারাকপুরে। পেটে লাথি মারায় বৃদ্ধ হার্ট ফেল করে মারা গেলেন। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ওই কাউন্সিলরকে ৬ বছরের সাসপেন্ড করেছে। খুনের অভিযোগে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। এখন প্রশ্ন হল, কে এই রবিন ভট্টাচার্য। কী ঘটেছিল, যে বৃদ্ধের পেটে সজোরে লাথি মারল ও বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটল?
কে এই রবিন ভট্টাচার্য?
পুরো নাম রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। এলাকায় রবিন নামেই পরিচিত। ব্যারাকপুরে শাসকদলের নেতা। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করলেও, ব্যারাকপুরে বেশ দাপুটে। উত্তর ব্যারাকপুরে তিনি শুধু কাউন্সিলরই নন, স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট। ব্যারাকপুর এলাকায় আরেক তৃণমূল নেতা রাজেশ যাদবের প্রতিদ্বন্দ্বী। ২০১৪ সালে রবিনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। ৩ বার গুলি করা হয়। লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বেশ কিছু দিন। স্থানীয়দের অনেকের দাবি ছিল, রাজেশ যাদব গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের সঙ্গে জড়িত ছিল এই খুনের চেষ্টার ঘটনা। সেই রবিন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে সজোরে পেটে লাথি মারা ও তাতে মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ঠিক কী ঘটে ওই বৃদ্ধের সঙ্গে?
উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বেআইনি নির্মাণকে ঘিরে যাবতীয় ঘটনার সূত্রপাত। তুলসীচরণ অধিকারী নামে ৮১ বছরের এক বৃদ্ধ ওই বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদে পুরসভায় চিঠি লিখেছিলেন। রবিবার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবিন ভট্টাচার্য হাজির হন ওই বৃদ্ধের বাড়িতে। বৃদ্ধের ছেলে হেমন্ত অধিকারীকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ। ছেলে মার খাচ্ছে, দেখে বৃদ্ধ বাবা বাধা দিতে যান। তখন ৮১ বছরের ওই বৃদ্ধের পেটে সজোরে লাথি মারেন। কাউন্সিলরের লাথিতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে যান বৃদ্ধ। ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে বৃদ্ধকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
৬ বছরের সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল
প্রবীণ নাগরিকের মৃত্যুতে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ আটক করে রবিনকে। সন্ধ্যায় এলাকায় যান এলাকার সাংসদ পার্থ ভৌমিক। বলেন, 'দল এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। এটি মর্মান্তিক এবং নিন্দনীয়। অভিযুক্তকে আগামী ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হল। মৃত বৃদ্ধ অত্যন্ত সজ্জন ছিলেন, তাঁর মৃত্যু হৃদরোগে না কি আঘাতের কারণে, তা ময়নাতদন্তেই স্পষ্ট হবে।'