বাংলার সবচেয়ে উষ্ণঁ শহর কোনটি? AQI.in-এর তথ্য অনুযায়ী, ভাগলপুর, বেগুসরাই এবং আসানসোলের মতো শহরগুলিতে তাপমাত্রা প্রায় ৪৩–৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বুধবার, ২২ এপ্রিল সকাল ১১:৫২ থেকে বিশ্বে সর্বাধিক উষ্ণ ১০টি শহরের মধ্যে এই শহরগুলি জায়গা করে নিয়েছে। এই পরিস্থিতি কোনও ভাবেই আকস্মিক নয়, বরং ভৌগলিক অবস্থান, মৌসুমী আবহাওয়ার ধরণ এবং মানবিক কার্যকলাপের সমন্বয়ে এই অঞ্চলগুলিকে রীতিমতো উত্তপ্ত করে তুলেছে।
কেন এত গরম আসানসোলে?
ভারত বর্তমানে শক্তিশালী প্রাক-বর্ষা তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে, যা সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে দেখা যায়। এই সময় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তাপপ্রবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় যখন তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস অতিক্রম করে, এবং পূর্ব ভারতের অনেক শহর সেই সীমা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গিয়েছে। আসানসোল তার মধ্যে একদম প্রথমেই রয়েছে।
এই পরিস্থিতির একটি বিশেষ দিক হল, 'ক্লাস্টারিং এফেক্ট'। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন ভাবে কিছু শহর গরম না হয়ে পুরো অঞ্চল, বিশেষ করে বিহার এবং তার প্রতিবেশি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ একসঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র বিহারের একাধিক শহরই বারবার তীব্র গরমের শহরগুলির শীর্ষে উঠে এসেছে। যা কোনও ব্যতিক্রম নয়। বরং একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক প্রবণতা। পরিষ্কার আকাশ, তীব্র রোদ এবং শুষ্ক বাতাস দিনের বেলায় দ্রুত তাপমাত্রা বাড়িয়ে তুলছে, এবং রাতেও তেমন তাপমাত্রা কম হচ্ছে না।
ভৌগোলিক অবস্থান এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে
বিহার, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ ইন্দো-গঙ্গেয় সমভূমিতে অবস্থিত। একটি বিশাল সমতল এলাকা যেখানে উচ্চতা কম এবং সূর্যালোকের সরাসরি প্রভাব বেশি। উদাহরণস্বরূপ, বিহারে আর্দ্র উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় জলবায়ু রয়েছে, যেখানে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দীর্ঘ ও তীব্র গ্রীষ্মকাল থাকে।
এই সময়ে লু অর্থাৎ গরম ও শুষ্ক বাতাস সমভূমি জুড়ে বয়ে যায়। যা দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। বর্ষা আসার আগে এই অঞ্চলগুলো দ্রুত গরম হয়ে ওঠে। মেঘের অভাব এবং বৃষ্টিপাত না থাকায় জমি তাপ শোষণ করে এবং ধরে রাখে, ফলে প্রতিদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকে।
প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও মানবিক কার্যকলাপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে 'আরবান হিট আইল্যান্ড' প্রভাব তৈরি হয়েছে, যেখানে কংক্রিটের ভবন, রাস্তা এবং সবুজের অভাবে শহরগুলো আশেপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় বেশি গরম হয়ে ওঠে।
বন উজাড়, জলাশয় সংকোচন এবং ভূমির ব্যবহার পরিবর্তনও প্রাকৃতিক ভাবে শীতল ভাব কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতে তাপপ্রবাহের ঘনত্ব এবং তীব্রতা বাড়ছে, ফলে এ ধরনের চরম পরিস্থিতি আরও সাধারণ হয়ে উঠছে। যদি নগর পরিকল্পনা এবং জলবায়ু অভিযোজন উন্নত না হয়, তবে ভবিষ্যতেও পূর্ব ভারত বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার তালিকায় শীর্ষে থাকতে পারে।