প্রতীক উর রহমান'এটা যদি প্রকাশ্যে বলতে হতো, তাহলে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্টে বলতাম। এটা আমাদের পার্টির অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি পার্টির অভ্যন্তরে যা বলার বলেছি। এই প্রসঙ্গে আমি কোনও মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনওরূপ মন্তব্য করব না। দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দলের অভ্যন্তরেই বলেছি।', দল ছাড়ার প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in-কে এমনটাই বললেন প্রাক্তন SFI নেতা প্রতীক উর রহমান।
আর তাঁর এই মন্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে কিছু একটা অবশ্যই ঘটেছে। তিনি কোনও একটা বিষয় নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নিজের মতামত জানিয়েছেন। যদিও কোন বিষয়ে তিনি দলের অভ্যন্তরে জানিয়েছেন, তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
প্রসঙ্গত, এ দিন সকাল থেকেই প্রতীক উর রহমান দল থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে খবর চাউর হয়। এমনকী এই নিয়ে পোস্ট করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। তারপরই ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতীক উর একাধিক প্রশ্নের ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব দেন।
মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে কোনও ঝামেলা?
এই প্রশ্নটাও করা হয় প্রতীকুরকে। এর উত্তরেও একই উত্তর দিয়েছেন এই সিপিআইএম নেতা। তিনি এই বিষয়ে বলেন, 'আমার যদি এই বিষয়ে কিছু বলার থাকত, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই লিখতাম। আমার এটা দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়। দলের অভ্যন্তরেই বলছি। বাইরে কিছু বলব না।'
দল কি বদল করতে চলেছেন?
এই প্রশ্নেরও উত্তর দেন প্রতীকুর। তিনি বলেন, 'আপাতত কোনও প্রশ্ন নেই। এখনও এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেই।'
কী চলছে?
দলীয় সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই দল ও কিছু নেতার নানাবিধ কাজকর্মে মনে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন প্রতীক উর। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের বৈঠকের পর একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও করেন এই নেতা। তিনি ফেসবুকে লেখেন 'নীতি নৈতিকতা ছাড়া আর যা-ই হোক কমিউনিস্ট পার্টি হয় না'।
আর শুধু ফেসবুকে নিজের জানিয়েই চুপ করে থাকেননি প্রতীকুর। তিনি নিজের মতামত দলকেও জানান। তারপর কাজ না হওয়াতেই দল থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই জনপ্রিয় লড়াকু নেতা বলে প্রাথমিকভাবে খবর মিলেছে। যদিও এই বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও চুপই ছিলেন প্রতীক উর। তিনি কিচ্ছুটি মুখ খোলেনি।
চিঠিতে কী লিখেছেন প্রতীক উর?
ইতিমধ্যেই একটি চিঠি (এই চিঠির সত্যতা যাচাই করা হয়নি bangla.aajak.in-এর পক্ষ থেকে) ভাইরাল হয়েছে। সেই চিঠি তিনি দলের রাজ্য সম্পাদককে লিখেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'আমি প্রতীক উর রহমান, পার্টির একজন সর্বক্ষণের কর্মী। সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
এই অবস্থায় আমি পার্টির জেলা ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব তৎসহ পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্ত আপনাকে অবগত করলাম।'