রাজ্য কর্মীদের জন্য ১২ শতাংশ DA? প্রথম বাজেটের আগে জোর জল্পনা নবান্নে

সোমবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। বাজেটের আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কত বাড়বে? নবান্ন থেকে শুরু করে জেলার সরকারি দফতরগুলিতেও এখন এই নিয়েই জোর আলোচনা।

Advertisement
রাজ্য কর্মীদের জন্য ১২ শতাংশ DA? প্রথম বাজেটের আগে জোর জল্পনা নবান্নেদুদিনের দিল্লি সফরে মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যোগ দেবেন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে
হাইলাইটস
  • সোমবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে।
  • বাজেটের আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কত বাড়বে?

সোমবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হতে চলেছে। বাজেটের আগে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কত বাড়বে? নবান্ন থেকে শুরু করে জেলার সরকারি দফতরগুলিতেও এখন এই নিয়েই জোর আলোচনা।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে একসঙ্গে বকেয়া ৪২ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দেওয়া কার্যত অসম্ভব। তাই বাজেটে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন। বাকি অংশ ধাপে ধাপে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কর্মচারীদের একাংশের ধারণা, তিন দফায় সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করতে হলে তার আগে ডিএ সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই দূর করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ডিএ বাবদ মোট ৪১ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল। এর মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা মিটিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এখনও প্রায় ৩৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা পরিশোধের দায় রয়ে গেছে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান কমানোর জন্যও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

প্রশাসনিক মহলে খবর, ডিএ মেটাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু সেই অর্থ জোগাড় করতে গেলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। যদিও জিএসটি থেকে বার্ষিক আয় ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ফলে রাতারাতি রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ খুবই সীমিত। আবগারি খাতে আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নীতিগত কিছু বাধা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অপচয় ও অনিয়ম রোধ করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাত থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের অনাদায়ী কর আদায়ে জোর দেওয়া। পাশাপাশি পঞ্চায়েত, পুরসভা ও অন্যান্য স্বশাসিত সংস্থাগুলিকে আর্থিকভাবে আরও স্বনির্ভর করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

Advertisement

তাই প্রথম বাজেটে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির উপরেই বেশি গুরুত্ব দিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। বিভিন্ন দফতরে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের বিস্তারিত হিসাব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা বাজেটে তুলে ধরা হবে। ফলে অধিকাংশ দফতরের বরাদ্দ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৮৪ কোটি টাকার ব্যয়বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সেই অঙ্ক ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা পুনর্বিবেচনার কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে বহু অযোগ্য বা ভুয়ো উপভোক্তার নাম বাদ পড়তে পারে। একই সঙ্গে ‘বাংলার বাড়ি’, ‘কৃষকবন্ধু’, ‘বাংলা শস্যবিমা’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং ‘যুবসাথী’-র মতো একাধিক রাজ্য প্রকল্পের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট খাতে রাজ্যের আর্থিক বোঝাও কিছুটা কমবে।

তবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মধ্যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ছাড়া অন্য খাতে বড়সড় ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা আপাতত কম। অন্যদিকে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা সামাল দিতে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানো এখন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement