scorecardresearch
 
 

'মোদীকে হারানো অসম্ভব'- এই মিথ ভাঙা মমতাই কি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ?

জয়বাংলা থেকে জয় হিন্দুস্তান- এবার ২১ শে জুলাই শহীদ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটাই ছিল সর্বশেষ স্লোগান। আর এই ছোট্ট একটি বাক্যেই নিহিত রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সময়ের রাজনীতির রোড-ম্যাপ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
হাইলাইটস
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন ‘খেলা’ শেষ হয়নি, খেলা হবে ২০২৪-র জন্যও
  • আর তাই আগামী  ১৬ আগস্ট যেদিন হাজরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় সিপিএমের আশ্রিত গুন্ডাবাহিনী আঘাত হেনেছিল, সেদিনটিকে স্মরণ করে পালিত হবে ‘খেলা দিবস’
  • এছাড়া শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এবার হবে গোটা দেশজুড়ে

জয়বাংলা থেকে জয় হিন্দুস্তান- 
এবার ২১ শে জুলাই শহীদ দিবসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটাই ছিল সর্বশেষ স্লোগান। আর এই ছোট্ট একটি বাক্যেই নিহিত রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সময়ের রাজনীতির রোড-ম্যাপ।

এর পাশাপাশি, আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন ‘খেলা’ শেষ হয়নি, খেলা হবে ২০২৪-র জন্যও। ওটা দেশজুড়ে খেলা হবে। আর তাই আগামী  ১৬ আগস্ট যেদিন হাজরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় সিপিএমের আশ্রিত গুন্ডাবাহিনী আঘাত হেনেছিল, সেদিনটিকে স্মরণ করে পালিত হবে ‘খেলা দিবস’। এছাড়া শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এবার হবে গোটা দেশজুড়ে।

অতএব এই যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মুহূর্তের রাজনীতি তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকারও ২০২৪-এ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের অপসারণ। মমতা তাঁর পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বক্তৃতায় বলেছেন, তিনি চান ‘এক গদ্দার মুক্ত ভারত’। কেননা বিজেপি গদ্দারদের তৈরি করে। অনেকে বলছেন, নাম না করে তিনি শুভেন্দু অধিকারীকেও এখানে আক্রমণ করেছেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য শুভেন্দু অধিকারী নন, তিনি গোটা দেশ থেকে নরেন্দ্র মোদীর সরকার তথা বিজেপির বিতারণ চাইছেন। 

কাজটা যে খুব সহজ এমন নয়। এই মুহূর্তে জাতীয় স্তরে বিজেপির সবথেকে বড় বিকল্প যে দল সেটি কংগ্রেস, কিন্তু সেই কংগ্রেস এক গভীর সংকটের আবর্তে। রাহুল গান্ধী দলের সভাপতি আছেন না নেই, সেটা এখন স্পষ্ট হল না। কিন্তু আগামী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের কাণ্ডারি থাকবেন না থাকবেন না, সেটাও পরিষ্কার নয়। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্রর সিংয়ের সঙ্গে নভজ্যোত সিং সিধুর লড়াই অব্যাহত। সিধু হাই কম্যান্ডের আর্শীবাদে রাজ্য সভাপতি হয়েও ঘোষণা করেছেন তিনি ক্ষমা চাইবেন না ক্যাপ্টেনের কাছে। সুতরাং, সংঘর্ষ বিরতি যদি এই দুই নেতার মধ্যে না হয়, তাহলে পাঞ্জাবে কংগ্রেসের ভবিষ্যত কী?

আরও পড়ুন : Jawhar Sircar : রাজ্যসভায় মমতার বাজি দুঁদে আমলা জওহর সরকার, কে ইনি?

একই রকম সমস্যা রাজস্থানের শচিন পাইলট আর মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে নিয়ে। এমনকি, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীকেও অপসারণের দাবিতেও বিক্ষুদ্ধ কার্যকলাপ শুরু হয়ে গেছে। কংগ্রেস চূড়ান্ত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। রাহুল গান্ধীকে এখনও ‘সিরিয়াস পলিটিশিয়ান’-এই তকমা দেওয়া যাচ্ছে না। যেমন, উত্তরপ্রদেশেও মুখ্যমন্ত্রী হতে চান অখিলেশ যাদব কিন্তু মুলায়ম সিং যাদবের মধ্যে যে ‘ওল্ড স্কুল’রাজনীতির কৌশল ছিল, অখিলেশ এখনও ঠিক সেইভাবে উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারেননি। এমতাবস্থায়, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ২০০-র আসনে জয়লাভ শুধু করা নয়, এমন একটা পরিস্থিতিতে করা যখন বিজেপি ধরেই নিয়েছিল তারা ভোটে জিতে গেছেন। এখনও মনে আছে, সেই সময় বিজেপির নেতারা, মমতা ক্ষমতাচ্যুত হলে কী কী করবেন না করবেন, সেই সব নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করতেন। 

এমতাবস্থায়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন আর কিছু নয়, একটা মিথকে ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। সেটা হল নরেন্দ্র মোদীকে পরাস্ত করা যায় না। ওই যে ‘ডন’ ছবির ডায়লগ ছিল যে, ‘ডন কো পকড়না মুশকিল হি নেহি, নামুমকিন হ্যায়’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আর শুধু এইটুকুর জন্যই গোটা দেশজুড়ে যারা মোদীবিরোধী কালায়েন্টেল তারা উজ্জীবিত। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী ঐক্যের একটা প্রধান ফালকান হয়ে উঠেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে স্তালিন থেকে শুরু করে কেজরিওয়াল, শরদ পাওয়ার থেকে শুরু করে তেজস্বী যাদব সবাই একত্রিত হচ্ছেন। দিগ্বিজয় সিং, চিদম্বরম এমনকী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্রর সিং পর্যন্ত মমতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মধ্যপ্রদেশে কমলনাথ ঘোষণা করেছেন যে, মমতার নেতৃত্বে এবার বিরোধী ঐক্য হবে। কমলনাথ আরও জানিয়েছেন যে, তিনি ভোপাল বা রায়পুরে মমতার জন্য সভা করতে প্রস্তুত। এতে বোঝা যাচ্ছে, এবার মমতার নেতৃত্বে রাজ্যে রাজ্যে জনসভা হবে। 

পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মমতার যে বক্তৃতা, এই বক্তৃতাও কিন্তু এর আগের শহীদ দিবসের যে বক্তৃতা তার সাথে অনেক তফাৎ। শহীদ দিবসের বক্তৃতা শুরু হয়েছিল কমিউনিস্ট শাসনের অপশাসনের বিরুদ্ধে। তারপর সেই দিন থেকে রাজ্য রাজনীতির গঙ্গায় অনেক স্রোত বয়ে গেছে, রাজ্য রাজনীতির অনেক পালা বদলের পালা হয়েছে, মমতার দশ বছরের শাসন অতিবাহিত। কিন্তু এখন মমতা তাঁর নিজের রাজ্যে নিজেকে সুসংহত করে এগোচ্ছেন দিল্লির দিকে। তিনি তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রী হব এমন একটা মনোভাব প্রকাশ করছেন না, উল্টে শরদ পাওয়ার, চিদম্বরম থেকে শুরু করে সমস্ত নেতাদের ডিজিটাল সভায় তাঁরা যখন উপস্থিত হয়েছেন তাঁদের কে লক্ষ্য করে বলেছেন যে, তিনি একজন সৈনিকের মতো কাজ করবেন। তিনি প্রবীণ নেতাদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবেন। অর্থাৎ একটা বিনীত মনোভাব নিয়েই তিনি কিন্তু এগোচ্ছেন। এবারের ২১ জুলাইয়ের বক্তৃতা অভিনব, তার কারণ এটা প্রথম ডিজিটাল বক্তৃতা। তার চেয়েও অভিনবত্ব অনেক বেশি এই যে, পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বক্তৃতা খুব স্ট্রাকচারড। এই বক্তৃতা বিভিন্ন কম্পোনেন্টে ভাগ করে রীতিমত স্ক্যান করা যায়। এই বক্তৃতাতে একদিকে যেই রকম আছে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং পশ্চিমবঙ্গের কথা, উন্নয়নের দিশা দেখানোর চেষ্টা। তবে তার চেয়েও অনেক বেশি রয়েছে সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি মুক্ত হতে গেলে কীভাবে বিরোধীদের ঐক্য স্থাপন করতে হবে, অ-বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীদের এক হতে হবে, এমনকি তিনি দিল্লিতে এলে ২৭,২৮,২৯ তারিখে কী করতে চাইছেন, কেন আসছেন সেটাও খোলসা করেছেন। যখনই সংসদের অধিবেশন হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি এসেছেন এবং সেদিক থেকে দেখতে গেলে দিল্লির রাজনীতি কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নতুন নয়। ১৯৮৪ সালে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে প্রথমে তিনি দিল্লির রাজনীতিই করতে এসেছিলেন। সেটা লোকসভার রাজনীতি। আগেতিনি রেলমন্ত্রী হয়েছেন তারপর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। নরেন্দ্র মোদী যেমন আগে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তারপর প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন নরসিংহ রাওয়ের সময়ে, ৯১ সালে। তারপরে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে গেছেন। মানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন।

আরও পড়ুন :    শিক্ষকদের সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কি! উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘিরে ক্ষোভ

আজ তাই দিল্লির রাজনীতির যে ব্যাকরণ সেটা কিন্তু তাঁর অজানা নয়। পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি একটু হিন্দি, ইংরেজি এবংবাংলার মিশেল ঘটিয়েছেন। যখন তিনি তাঁদের ফোন ট্যাপ করার বিষয়ে সু্প্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সেসব কথা বলেছেন, তাঁদের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তখন বিচারপতিদের কাছে হাতজোড় করে তিনি কিন্তু ইংরেজিতে আবেদন জানিয়েছেন যে আপনারা নিজে থেকেই এব্যাপারে মামলা করুন, তদন্ত করুন। আবার রাজ্যে রাজ্যে তিনি তাঁর বক্তৃতা এবারে ডিজিটালি দিয়েছেন এমনকি আহমেদাবাদেওসেখানে তাঁর বক্তৃতা শুনেছেন যাঁরা শুনতে চান। অনেকেই জানেন, রাজ্যে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সেই রকম সংগঠন নেই কিন্তু মমতাকে গোটা দেশের মানুষ চেনেন এবং তিনি এই শহীদ দিবসে তাঁর বক্তৃতার মাধ্যমে গোটা দেশের মানুষের কাছে রিচড আউট করেছেন বা পৌঁছে গেছেন। এবং সবটাই কিন্তু পরিকল্পনামাফিক তিনি করছেন। প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে উত্তেজিত হয়ে কোনও কথা বলছেন না ঠিকই তবে একটা ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনার কথা তিনি বলেছেন। এবং মমতার দিল্লিতে আসার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পিকে তাঁরা এসে গেছেন, তাঁরা বিরোধী নেতাদের নিয়ে নৈশভোজ করেছেন এবং একটা আরম্ভের আগে আরম্ভের কাজ সুনিপুণভাবে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজেকে সাংঘাতিকভাবে ম্যাচিওরড করে তুলেছেন এবং অভিষেক যেহেতু দিল্লিতে লোকসভার সদস্য, তাঁকে সবাই চেনেন, তিনি দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সুনিপুণভাবে মমতার দিল্লি সফরের রেড কার্পেটে স্বাগত জানানোর জন্য সবরকমের ব্যবস্থা করছেন। 

আমি বলি, অভিষেক যেটা করছেন সেটা হচ্ছে সন্ধ্যেবেলা প্রদীপ জ্বালানোর আগে বিকেলের সলতে পাকানো। আর তাঁর সঙ্গে স্বভাবতই রয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। এই রকম একটা পরিস্থিতিতে মমতার এবারের দিল্লি সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জল মাপবেন। তিনি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে যেমন কথা বলতে চান ঠিক সেই ভাবেই কথা হবে শরদ পাওয়ারের সাথে। এমনকি বিরোধী নেতারা সবাই যদি থাকতে পারেন তাহলে ছোটখাটো একটা বৈঠকও হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই প্রস্তাব দিয়েছেন শরদ পাওয়ারের কাছে। আবার প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন।

একটা জিনিস খুব স্পষ্ট যে, ভোটের সময় যে ভাষায় সাধারণত রাজনৈতিক দলের নেতারা কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কিন্তু সেই ভাষায় কথা বলছেন না। এবং তিনি মোদীর সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, বয়কট করতে চাইছেন না, কোনওরকম প্রতিহিংসাপরায়ণতা যাতে বিজেপি না দেখায় তার জন্য অনুরোধ করছেন। কিন্তু তাঁর অনুগামীদের কাছে তিনি একটাই কথা বলেছেনযে, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক সুষ্ঠভাবে চান, শিল্প চান, অর্থনীতির উন্নতি চান এবং কেন্দ্র ও রাজ্য যাতে সাংবিধানিকভাবে এক হয়ে কাজ করতে পারে তারও প্রত্যাশা, আমলাদের যাতে পাঁঠার বলি না করা হয় তার জন্য তিনি অনুরোধ জানাচ্ছেন। কিন্তু এখানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যদি কেন্দ্র প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নেয় তাহলে তিনি চুপ করে থাকবেন না। তার বদলে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা দেশেই তিনি আক্রমণাত্মক রাজনীতিতে নেমে পড়বেন। 

এখন বিবিসি থেকে শুরু করে রয়টার্স, এমনকি বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সাংবাদিকরা যাঁরা দিল্লিতে আছেন তাঁরা অনেকেই প্রশ্ন করেন, তবে কি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী?যেভাবে তিনি বিজেপিকে পরাস্ত করেছেন এবার তার জন্য সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। সব নেতারাই তাঁকে গ্রহণ করতে রাজি আছেন। তাঁর এই কৃতিত্ব, তাঁর এই সাফল্য একটা মস্তবড় মূলধন। আমরা বাঙালিরা ৪৭ সালের পর বাঙালি প্রধানমন্ত্রী পাইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভবনা আসে এবং সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভার আসন বিয়াল্লিশটা, সুতরাং বিয়াল্লিশের বিয়াল্লিশটা পেলেও তৃণমূল সরকারের, সরকার কী করে হয় এই প্রশ্ন যারা তুলছেন সেক্ষেত্রে আমরা মনে করতে পারি অতীতেও কোয়ালিশন সরকার হয়েছে। এবং কোয়ালিশন সরকার টেকেনি এটা যেমন সত্য তেমনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আজকের বিরোধী দলদের নিয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন যে অসম্ভব একথাও বলা যায় না। কেননা অতীতে যা হয়েছে সেই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে যদি জোট সরকার গঠন হয় তবে এই যে ব্রুট মেজোরিটি, নিরুঙ্কুশ সরকারের আধিপত্যে যারা ক্লান্ত এবং গণতন্ত্রকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ হতে দেখছে এবং এক ধরণের একনায়কতন্ত্র, আধিপত্যকামিতার শিকড়ে পৌঁছে গেছে যেটা আমরা দেখছি তার বদলে যদি নতুন করে আবার একটা জোট সরকার গণতন্ত্রে দখিনা বাতাস নিয়ে আসে তবে সেটা যে অসম্ভব, একথা বলা যায় না। আর আমরা বাঙালি সমাজ একবার জ্যোতিবাবুর সময়ে প্রধানমন্ত্রিত্বের পদ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। ৪৭ সালের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হন তবে সেটা বাঙালির জন্য গর্বের বিষয় হবে।