বামনগোলার গ্রামের ২৪ পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরেও পরাধীন জীবন কাটানোর অভিযোগ মালদহের বামনগোলা ব্লকের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী তালতলি গ্রামের ২৪টি পরিবারের। ২০০৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সময় এই পরিবারগুলি বেড়ার ওপারে থেকে যায়। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ২১ বছর। এখনও তাঁদের বসবাস কাঁটাতারের ওপারেই। গ্রামবাসীদের দাবি, ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কার্যত জেলের কয়েদির মতো জীবনযাপন করছেন তাঁরা।
চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালতলা গ্রামের একদিকে ভারত, অন্যদিকে বাংলাদেশ। পুনর্ভবা নদী এই এলাকায় দুই দেশের প্রাকৃতিক সীমারেখা বা জিরো লাইন হিসেবে কাজ করছে। নদীর ওপারে বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার সপাহার থানার আদাতলা গ্রাম। আর নদীর এপারে মালদহের বামনগোলা থানার তালতলি গ্রাম। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে থাকা ২৪টি পরিবারের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময় মেনে BSF-কে পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়। দিনে দু'তিনবার যাতায়াত করলেও রাতে অসুস্থতা বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে পড়তে হয় চরম সমস্যায়।
গ্রামবাসীরা আরও জানাচ্ছেন, পুনর্ভবা নদী এই অংশে সীমান্তের অন্যতম চিহ্ন হওয়ায় মাঝে মধ্যেই আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। তাঁদের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা নদী পেরিয়ে এপারে এসে গবাদি পশু নিয়ে চলে যায়। ফলে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।
এই পরিস্থিতিতে কাঁটাতারের বেড়ার এপারে তাঁদের পুনর্বাসনের দাবিতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য,ভারতীয় নাগরিক হয়েও যদি নিজের দেশের মূল ভূখণ্ডে অবাধে বসবাস করতে না পারেন, তাহলে স্বাধীনতার সুফল তাঁরা কীভাবে পাবেন?
এই পরিস্থিতিতে তালতলি গ্রামে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের সেচ ও আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক জুয়েল মুর্মু। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি এবং ৮৮ নম্বর তালতলা বিওপির BSF আধিকারিকরা। গ্রামবাসীরা মন্ত্রীর কাছে হাতজোড় করে আবেদন করেন, কাঁটাতারের বেড়ার এপারে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। গ্রামবাসীদের দাবি, বেড়ার ওপারে থাকার কারণে সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত সহ সব ক্ষেত্রেই নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
মন্ত্রী জুয়েল মুর্মু জানান, তিনি এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শুনেছেন। বিষয়টি রাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। ২৪টি পরিবারকে কাঁটাতারের বেড়ার এপারে এনে পুনর্বাসন দেওয়া যায় কি না, সেই বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।
এই পরিস্থিতিতে এখন সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে তালতলার ওই ২৪টি পরিবার। ওই পরিবারগুলির একটাই দাবি, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে কাঁটাতারের বেড়ার এপারে এনে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেওয়া হোক।
রিপোর্টার-মিলটন পাল