হুগলিতে একের পর এক স্কুল বন্ধ গ্রামে স্কুল ভবন আছে, কিন্তু শিক্ষক নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। তাই শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক স্কুল। হুগলির আরামবাগ, খানাকুল ও পুড়শুরার চিত্র ঠিক এমনই। সম্প্রতি এই ৩ এলাকায় বন্ধ হয়েছে ৮টি জুনিয়র হাইস্কুল। যার ফলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে পড়ুয়াদের।
আরামবাগের চুনাইট জুনিয়র হাইস্কুল, নারায়ণপুর জুনিয়র হাইস্কুল, গোঘাটের পাণ্ডুগ্রাম বেনেপুকুর শিবতলা জুনিয়র হাইস্কুল, খানাকুলের শশাপোতা হরিজন নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়, বামনখানা বিবেকানন্দ জুনিয়র হাইস্কুল, জগৎপুর জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল, রাংতাখালি জুনিয়র হাইস্কুল, মাদারিচক জুনিয়র হাইস্কুলে এই মুহূর্তে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্যতে নেমে আসায় স্কুলের গেটে পড়েছে তালা। আরও বেশকিছু স্কুলও ধুঁকছে।
এলাকার মানুষের অভিযোগ, বিগত সরকারের ব্যর্থতায় স্কুলগুলির এই হাল। গ্রামে স্কুল থাকতেও ছেলেমেয়েদের দূরের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। গ্রামের স্কুল চালু থাকলে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর হতো। এদিকে নতুন সরকার ফের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বৈদ্যনাথ রায় বলেন, 'আমাদের আশা, দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ হলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই স্কুলগুলি আবার চালু হবে এবং গ্রামের পড়ুয়ারা নিজেদের এলাকাতেই শিক্ষার সুযোগ ফিরে পাবে।' খানাকুলেরই স্থানীয় বাসিন্দা বাঁশরী মোহিনী সূর বলেন, 'আমাদের বহুদূরে পাঠিয়ে সন্তানদের পড়াতে হয়। আমরা মধ্যবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষ। আমাদের এত সামর্থ্য নেই যে টাকা খরচ করে সন্তানদের পড়াব। আমরা চাই যাতে এই স্কুলটাই আবার খুলুক। শিক্ষক, শিক্ষিকা নিয়োগ করে যাতে এই স্কুল চালু করা হয়।' এ বিষয়ে গোঘাটের স্থানীয় বাসিন্দা সুজয় রায় বলেন, 'চালু হওয়ার দুজন শিক্ষক এসেছিলেন। পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রীও ছিল। কিন্তু পরে শিক্ষক না থাকায় এই অবস্থা। ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ানো হয়। শিক্ষক পেলে গ্রামের মানুষ পরিষেবাটা পায়। সরকারের কাছে একটাই অনুরোধ পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ করে যাতে এই স্কুলটি আবার চালু করা হয়।'
আরামবাগের BJP বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, 'বিগত সরকারের আমলে কাটমানির কারণে এই স্কুলগুলি শুধু নয় বহু স্কুল আছে যেগুলি বন্ধের অবস্থায়। আরামবাগ বিধানসভায় দু'টি স্কুল, খানাকুল ও গোঘাট বিধানসভায় ৬টি জুনিয়র হাই স্কুল সহ মোট ৮টি জুনিয়র হাইস্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিগত সরকার যেভাবে শিক্ষার দুর্নীতি করেছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে ছোটো ছোটো বাচ্চাদের। পশ্চিম বাংলায় আমাদের সরকার গঠন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, ইতিমধ্যেই নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। আমাদের সরকার নতুন করে স্কুলের পরিকাঠামো ঠিক করবে। পাশাপাশি যে সমস্ত স্কুল আরামবাগ মহকুমায় বন্ধ হয়েছে শিক্ষকের অভাবে, সে সমস্ত স্কুল আমারা ফের চালু করব।'