৭৬, ৮১ ও ৫৭ কিমি/ঘণ্টা, সর্বোচ্চ গতির কালবৈশাখীতে হ্যাটট্রিক দমদমে, ১৩ এপ্রিল থেকে বড় হাওয়া বদল

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দমদমে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৬ কিমি, মঙ্গলবার তা বেড়ে হয় ৮১ কিমি, আর বুধবার কিছুটা কমে ৫৭ কিমিতে নামে। এই টানা তিনদিনের ঝড়-বৃষ্টি গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি এনে দেয় শহর ও শহরতলির মানুষকে।

Advertisement
৭৬, ৮১ ও ৫৭ কিমি/ঘণ্টা, সর্বোচ্চ গতির কালবৈশাখীতে হ্যাটট্রিক দমদমে, ১৩ এপ্রিল থেকে বড় হাওয়া বদলফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • দমদমে পরপর তিনদিন কালবৈশাখীর দাপট, ৭৬, ৮১, ৫৭ কিমি বেগে বইল ঝড়।
  • কার্যত হ্যাটট্রিক ঝড়ের সাক্ষী থাকল শহরতলি।

দমদমে পরপর তিনদিন কালবৈশাখীর দাপট, ৭৬, ৮১, ৫৭ কিমি বেগে বইল ঝড়। কার্যত হ্যাটট্রিক ঝড়ের সাক্ষী থাকল শহরতলি। অন্যদিকে কলকাতায় এই সময়ের মধ্যে মাত্র একদিনই কালবৈশাখীর দেখা মিলেছে, সোমবার ৬৩ কিমি বেগে বয়ে গিয়েছিল ঝোড়ো হাওয়া।

আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দমদমে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৬ কিমি, মঙ্গলবার তা বেড়ে হয় ৮১ কিমি, আর বুধবার কিছুটা কমে ৫৭ কিমিতে নামে। এই টানা তিনদিনের ঝড়-বৃষ্টি গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি এনে দেয় শহর ও শহরতলির মানুষকে।

গত কয়েকদিন ধরে কলকাতা ও আশপাশের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। মাঝেমধ্যেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে এই ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাশাপাশি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবও ছিল।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, বজ্রমেঘের চরিত্র খুব অল্প দূরত্বে বদলে যায়। ফলে কোথাও ঝড়ের তীব্রতা বেশি, কোথাও কম হতে পারে। সব জায়গায় হাওয়ার গতিবেগ মাপার পরিকাঠামো না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।

এই বৃষ্টির জেরে কলকাতায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৮.৭ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ২১.৩ ডিগ্রিতে।

তবে এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ কমবে, আর তার সঙ্গে সঙ্গে ফের বাড়বে তাপমাত্রা। আগামী কয়েকদিনে কলকাতার পারদ ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছবে, পরে তা আরও বেড়ে ৩৪-৩৫ ডিগ্রিতে উঠতে পারে। বিশেষ করে ১৩ এপ্রিলের পর পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে অস্বস্তিকর ‘হট অ্যান্ড হিউমিড’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃষ্টিপাতের নিরিখে নদিয়ার কল্যাণীতে সবচেয়ে বেশি ৫১ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় ৩০ থেকে ৫০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। কলকাতার আলিপুরেও প্রায় ২৫ মিমি বৃষ্টি নথিভুক্ত হয়েছে।

Advertisement


 

POST A COMMENT
Advertisement