ফাইল ছবিশান্তিনিকেতনে চিকিৎসা-বিপ্লবের সম্ভাবনা! এইমসের আদলে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্বভারতী। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানটির নাম হতে পারে ‘বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ও সহযোগিতা।
বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক জানিয়েছেন, উপাচার্যের বিশেষ উদ্যোগে শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবাকে একত্রিত করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক আবেদন ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে সাধারণ মানুষ যেমন উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন, তেমনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়ারাও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাবেন।
শান্তিনিকেতন ও বোলপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার অভাব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য অনেককেই দূরবর্তী শহরে যেতে হয়। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও চিকিৎসার প্রয়োজনে শান্তিনিকেতন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শোনা যায়।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বভারতীতে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক, আশ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষার নতুন অধ্যায়।
বর্তমানে বিশ্বভারতীতে দুটি হাসপাতাল রয়েছে, পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং দীনবন্ধু এন্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই দুটি হাসপাতালকেও ভবিষ্যতে মেডিক্যাল কলেজ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, অনুমোদন মিললেই শান্তিনিকেতনে শিক্ষা ও চিকিৎসার যুগলবন্দিতে নতুন ইতিহাস রচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।