সোনারপুরে অভিষেককে মারসোনারপুরে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় যেতেই ধুন্ধমার কাণ্ড। তাঁর দিকে ধেয়ে এল জুতো, ছোড়া হল ডিম, মারধরে ছিঁড়ে যায় অভিষেকের জামা। শেষে হেলমেট পরিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। দ্রুত তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। অভিষেককে ঘিরে 'চোর, চোর' বলে স্লোগান দেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিষেক দাবি করেন, "ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক, আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক। কিন্তু আমি জায়গা ছেড়ে যাব না। ঘটনাস্থলে একটাও পুলিশ ছিল না। আমি কোর্টে যাব। বাংলায় কোনও গণতন্ত্র নেই।"
#WATCH | Sonarpur, West Bengal: TMC MP Abhishek Banerjee says, "...They wanted to kill me... The whole incident has been captured on camera. We will definitely let the high court know about this. We will also let the governor know about this... I will definitely move to court..." https://t.co/MIZUJSZi3y pic.twitter.com/LWBApD95oC
— ANI (@ANI) May 30, 2026
এই পুরো ঘটনাটি সোনারপুরের কামরাবাদ এলাকায় ঘটে। তৃণমূল সাংসদ শনিবার সন্ধেয় দলের এক নিহত কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কামরাবাদে পৌঁছন। সেখানে বিজেপি কর্মী ও নেতারা আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন। হাতে কাঁচা ডিম, ঝাঁটা নিয়ে মহিলারা এগিয়ে আসেন। তাঁকে ঘিরে 'চোর চোর', 'জয় শ্রী রাম' স্লোগান দেন।
ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সাংসদ তাঁর গাড়ি রেখে বাইকে করে এলাকায় ঢোকেন। তবে, নিহত দলীয় কর্মীর বাড়ি থেকে কয়েকশ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীরা তাঁকে থামিয়ে দেয়। তৃণমূল নেতাকে দেখামাত্রই জনতা 'চোর, চোর!' বলে স্লোগান দিতে শুরু করে। উত্তেজিত জনতা দুটি বাইকও রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। শেষে সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরিয়ে তাঁকে নিয়ে যেতে হয়। তাঁর পরনের সাদা শার্টের বোতামও ছিঁড়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজেপি কর্মীদের ‘দেখে নেওয়া’, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম করে হুঁশিয়ারি এবং ডিজে বাজানোর রূপক ব্যবহার করে মন্তব্য—এসব নিয়েই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। সেই সমস্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এদিন প্রবল জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শনিবার প্রথমবার তাঁকে ময়দানে দেখা যায়। সকালে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় সিআইডি। কলকাতার বেলেঘাটা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর যাওয়ার পথে কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে রাজ্য সিআইডির একটি নোটিসও গ্রহণ করেন অভিষেক। সেখানে তিনি শাসক জলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এরপর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ও কলকাতার বেলেঘাটায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছন। তবে সোনারপুরে পৌঁছনোর আগেই প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।