মুখ্যমন্ত্রীর বারুইপুর সফরের আগেই অ্যাকশন, গণপিটুনিকাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই গণপিটুনিকাণ্ডে তদন্তে বড় অগ্রগতি। নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাওয়ার আগের রাতেই এই ঘটনায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে গণপিটুনি মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে।

Advertisement
মুখ্যমন্ত্রীর বারুইপুর সফরের আগেই অ্যাকশন, গণপিটুনিকাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫বারুইপুরে তুলকালাম।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই গণপিটুনিকাণ্ডে তদন্তে বড় অগ্রগতি।
  • নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাওয়ার আগের রাতেই এই ঘটনায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই গণপিটুনিকাণ্ডে তদন্তে বড় অগ্রগতি। নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর যাওয়ার আগের রাতেই এই ঘটনায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে গণপিটুনি মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচে।

গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাঁকে খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময়ই সন্দেহের বশে স্থানীয় যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইন্দ্রজিৎ সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। গণপিটুনির মামলায় এর আগে দু'জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাঁদের আদালতে তোলা হবে। পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা, রেল অবরোধ-সহ অন্যান্য ঘটনায়ও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বারুইপুরের পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি কথা বলেন ইন্দ্রজিতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনে সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির ঘোষণাও করেন। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সেই ফাঁড়ির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

শনিবার ফের বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথমে তিনি নির্যাতিতার বাড়িতে যাবেন। এরপর যাবেন ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে। পরে সূর্যপুরের নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করে কলকাতায় ফিরবেন।

ইন্দ্রজিতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। কয়েকজন তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করে। সেই মারধরেই তাঁর মৃত্যু হয়। শোকাহত মা বলেন, *"আমার আসল রত্নটাই হারিয়ে ফেলেছি। আর কিছু বলার নেই। জলজ্যান্ত ছেলেটাকে ঘর থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে এভাবে মেরে ফেলল!"* দোষীদের শাস্তির প্রশ্নে তিনি বলেন, *"সবটাই মুখ্যমন্ত্রীর উপর ছেড়ে দিয়েছি। উনি যা ভালো মনে করবেন, তাই করবেন।"*

Advertisement

প্রশাসনের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ইন্দ্রজিতের বাড়ির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ির সামনে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের দাবি, অভাব-অভিযোগ এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরবেন। পরিবারের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পদক্ষেপে তাঁরা সন্তুষ্ট।

অন্যদিকে, নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক অভিযুক্ত পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ওই এনকাউন্টার নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে। শুক্রবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

 

POST A COMMENT
Advertisement