অধীর চৌধুরী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধীমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি কংগ্রেসেই ফিরতে চাইছেন? মমতাকে কি নিতে আগ্রহী কংগ্রেস? এই সব প্রশ্ন উঠছে, কারণ বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর একটি বক্তব্যকে ঘিরে। অধীরে সরাসরি জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিন। এমনকী মমতার নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস লড়াই করবে বলেও অধীরের।
রাজীব গান্ধী স্নেহ করতেন মমতাকে
অধীর চৌধুরী বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী স্নেহ করতেন মমতাকে। সেই মমতা পরবর্তীকালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেন। বর্তমানে সব কিছু খুইয়ে আবার তিনি কংগ্রেসকে সমর্থনের জন্য এগিয়েছেন। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনও জানিয়েছেন। এহেন মমতাকে এ বার বড় অফার দিলেন বিরোধী হিসেবে পরিচিত অধীর চৌধুরী।
ব্যাগেজ রেখে কংগ্রেসে যোগ দিন, অধীরের অফার
তাঁর কথায়, 'আপনার সব এমপি, এমএলএ-দের নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে আসুন। নেতৃত্ব দিন, আমরা মেনে নেব। লোটাকম্বল সব নিয়েই আসুন। কংগ্রেসের মতো বটগাছের নিচে যখন আসতে চাইছেন, আসুন। কিন্তু ব্যাগেজটি বাদ দিয়ে আসতে হবে।' এখানে ব্যাগেজ বলতে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে চেয়েছেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তিনি নাম নেননি।
মমতার নেতৃত্বে কংগ্রেস করতে রাজি অধীর
INDI জোটে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সখ্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের মতোই ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত মেলাতে পারেন কংগ্রেসের সঙ্গে। এমনকী রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে মানতেও রাজি তিনি। এই সবের মধ্যে অধীরের বার্তা, 'অত ঝামেলা না করে সরাসরি আপনি কংগ্রেসে যোগদান করে যান। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনেই কংগ্রেস করব, অসুবিধা কী আছে? উনি তো একসময় কংগ্রেসেরই নেত্রী ছিলেন।' এই প্রস্তাব তিনি কংগ্রেসের হাইকম্যান্ডের কাছে পেশ করবেন বলেও জানান তিনি।
অধীরের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের হাতে কংগ্রেস কর্মীরা নির্যাতিত। ফলে দিল্লির জোটের সমীকরণে দুই দল ফের কাছাকাছি এলে নীচুতলার কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেই তাঁর বক্তব্য। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতাকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অধীর।