BJP-র 'তৃণমূলীকরণ' হচ্ছে না তো জেলায় জেলায়? সংগঠন পোক্ত করতে বৈঠকে শমীক

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠনকে কীভাবে পরিচালিত করা হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার নেতা, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে।

Advertisement
BJP-র 'তৃণমূলীকরণ' হচ্ছে না তো জেলায় জেলায়? সংগঠন পোক্ত করতে বৈঠকে শমীক শমীক ভট্টাচার্য
হাইলাইটস
  • পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠনকে কীভাবে পরিচালিত করা হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
  • রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার নেতা, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠনকে কীভাবে পরিচালিত করা হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে তৎপর হয়ে উঠেছে বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার নেতা, বিধায়ক এবং সাংগঠনিক পদাধিকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়েছে।

দলের এক পুরোনো নেতা জানিয়েছেন, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল সংগঠনের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। বিশেষ করে, তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর তাদের বহু নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দলকে সঠিক পথে পরিচালনা করাই এখন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য।

শমীক ভট্টাচার্যের পাশাপাশি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রী এবং দলের একাধিক সাংসদকে বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে শাসকদল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে নেতাদের দিকনির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, রাজ্যের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিটিতেই এই ধরনের বৈঠক হবে। দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্ব বারবার ‘তৃণমূলীকরণ’ রোধের কথা বলছে। সেই লক্ষ্যেই তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, নির্বাচনের পর হঠাৎ বিজেপি পরিচয় নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা। দ্বিতীয়ত, দলের অভ্যন্তরে কোনও ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অনিয়মের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি। তৃতীয়ত, দখলদারির রাজনীতি বা প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা।

শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের নেতাদের অহংকার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দখলদারির রাজনীতি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার কথাও বলা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি জেলায় একটি করে ১৫ সদস্যের ‘কোর কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটিতে সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদ এবং রাজ্যস্তরের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাংগঠনিক কাজের তদারকি এবং অভিযোগের তদন্তে এই কমিটিগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Advertisement

বিজেপির অন্দরেই অভিযোগ উঠেছে, কিছু এলাকায় কয়েকজন নেতা সরকারি দফতরে অযথা হস্তক্ষেপ করছেন কিংবা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু প্রোমোটার ও প্রাক্তন তৃণমূল নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

দলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং প্রোমোটারদের ঘিরে তৈরি হওয়া তথাকথিত ‘চাঁদাবাজির সংস্কৃতি’ রোধ করা। বিজেপির মতে, জনগণ এই ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছে এবং সেই প্রত্যাশার মর্যাদা রক্ষা করা প্রয়োজন।

নেতারা জানাচ্ছেন, লক্ষ্য সংগঠনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা। বিজেপির সব কর্মীই যে ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে, তা নয়। তাই জেলাস্তরে কড়া নজরদারি চালানো হবে। কোর কমিটিগুলি যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিজেপি নেতৃত্ব আরও জানিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা বিজেপি কর্মীদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য দলের দরজা আপাতত বন্ধ। তবে দীর্ঘদিন তৃণমূলে থেকেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং পরবর্তীতে কোণঠাসা হয়ে পড়া কিছু ব্যক্তির বিষয়ে ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হতে পারে।

সম্প্রতি ‘ভালো তৃণমূল’ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছিল। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, তৃণমূলকে ভালো বা খারাপ, এই দুই ভাগে ভাগ করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। বরং তিনি বলতে চেয়েছিলেন, বাংলার মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন এবং সেই বার্তাকে সম্মান করাই বিজেপির দায়িত্ব।

দলীয় নেতৃত্বের দাবি, অন্য দল থেকে কে এলেন বা গেলেন, সেটাই এখন তাদের প্রধান চিন্তা নয়। সংগঠনকে শক্তিশালী রাখা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিশ্রুত সুশাসন বাস্তবায়ন করাই বিজেপির বর্তমান অগ্রাধিকার।

 

POST A COMMENT
Advertisement