অসীম দত্ত
ভোটের প্রশিক্ষণে ব্যস্ত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনকর্মীরা। বলা যায়, এই মুহুর্তে জলদাপাড়া জঙ্গল সহ ডুয়ার্সের সমস্ত জঙ্গল কার্যত বনরক্ষীবিহীন। অভিযোগ, এই সুযোগেই জঙ্গলে বেড়ে চলা কাঠ চুরি থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনায় বিপাকে পড়েছে বন দফতর।
আরও অভিযোগ, নিরাপত্তাহীন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে জলদাপাড়া জঙ্গলে একশৃঙ্গ গন্ডার হত্যা করলো একদল চোরা শিকারি। বেশ কয়েক বছর পর ফের এক শৃঙ্গ গন্ডার হত্যার ঘটনা ঘটল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে।
রবিবার ভোরে জঙ্গলে টহলদারির সময় একটি পূর্ণ বয়স্ক স্ত্রী গন্ডারের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয় জলদাপাড়ার চিলাপাতা রেঞ্জের গভীর জঙ্গলে। মৃত গন্ডারটির শৃঙ্গ উধাও হয়ে যাওয়ায় বনকর্তাদের অনুমান, গন্ডারটিকে হত্যা করেছে চোরা শিকারির দল।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের অনুমান, দশ থেকে বারো দিন আগে গন্ডারটিকে হত্যা করা হয়েছে। দীর্ঘ চার বছর বাদে ফের জলদাপাড়া জঙ্গলে গন্ডার হত্যার ঘটনা সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের বনকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে গন্ডারটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে না বিষ দিয়ে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে। তা না আসা পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছেন না বন কর্তারা।
উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল রাজেন্দ্র জাখর জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত গন্ডার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়। জঙ্গলের পাহারাতে বনকর্মীদের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে পরপর ছয়টি গন্ডার হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তুমুল আলোড়ন হয়েছিল রাজ্যে। তারপর থেকেই আঁটসাঁট করা হয়েছিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের নিরাপত্তা।
এক শ্রেণির বনকর্তাদের মত, নির্বাচনের কাজ চলছে। আর সেই কারণে বনকর্মীদের ভোটের প্রশিক্ষণে যেতে হচ্ছে বা হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল চোরা শিকারিরা।
উত্তর-পূর্ব ভারতের চোরা শিকারিরা গন্ডারটিকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা বনকর্তাদের। গন্ডার হত্যার তদন্তে ইতিমধ্যেই বন দফতরের তিন গোয়েন্দা কুকুর করিম, ট্রফি ও রানিকে দিয়ে জঙ্গলে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এছাড়াও পাঁচটি কুনকি হাতির সাহায্যে জঙ্গল জুড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছেন বনকর্মীরা।