অনুব্রত মণ্ডল 'বীরভূমের বাঘ' অনুব্রত মণ্ডলকে শাসানি, হুমকির চিত্র রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছে। সিউড়িতে তাঁর পার্টি অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে ৩ যুবক। রাতেই তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ৩ জনকেই। এমনকী, অনুব্রত মণ্ডল খোদ পুলিশে কোনও অভিযোগও দায়ের করলেন না।
অনুব্রত অভিযোগ দায়ের না করায় মুছলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আকাশ দেবনাথ, ঋষভ গোর এবং বান্টি বীরবংশী নামে ওই ৩ যুবককে। ৩ জনই সিউড়ি হাট বাজারের বাসিন্দা। এলাকায় BJP সমর্থক বলেই পরিচিত।
স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর CPIM সমর্থক হওয়ার জন্য সে সময়ে আকাশ দেবনাথের বাবাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। যার জন্য বেশ কয়েক বছর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছিল আকাশের বাবাকে। সেই রাগেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আকাশের এই কীর্তি।
যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে আকাশ দেবনাথের বাড়ির লোক কিছু বলতে চাননি। ঋষভ গোরের মা বলেন, 'ও বাড়িতে থাকে না। আমাদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।' অন্যদিকে, বান্টি বীরবংশীর বাবা বলেন, 'আমার ছেলে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। কেন এটা করল আমি জানি না। সংবাদমাধ্যমেই যা দেখলাম। ও এখনও বাড়ি ফেরেনি।'
BJP-র যুব মোর্চার বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুজয় কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, 'হিন্দু যুবকরা নিস্তেজ হয়ে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এই যুবকরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের সাধুবাদ জানাই।'
প্রসঙ্গত, বুধবার সন্ধ্যায় সিউড়ির পার্টি অফিসে অনুব্রত মণ্ডল পৌঁছেছিলেন বহুদিন বাদে। সেখানে ৩ যুবক চড়াও হন, তাঁর সামনে লাঠি, রড নিয়ে ভাঙচুর চালায় তারা। ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁরা অনুব্রত মণ্ডলকে শাসান। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'সিউড়িতে যেন আর না দেখি।' তাঁর বুকে চ্যালা কাঠ ঠেকিয়ে ওই যুবকরা সরাসরি হুমকি দেন। তারপরই অনুব্রতকে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। অনুব্রত মণ্ডলকে 'গরুচোর' বলে কটাক্ষ করছিলেন ওই যুবকরা। তাঁদের বলতে শোনা যায়, '১৫ বছর ধরে বীরভূমের মানুষের উপর অনেক অত্যাচার করেছিস।' কেষ্ট হাতজোড় করে বলেন, 'আমার একটা কথা শোনো...'। তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে ওই যুবকদের একজন বলে ওঠেন, 'আর একটা কথাও নয়।' বলতে বলতে তাঁর সামনের টেবিলে গাছের ডাল দিয়ে মারেন ওই যুবকরা। কাচ ছিটকে পড়ে কেষ্টর গায়ে। তবুও হাসিমুখেই বসে থাকতে দেখা যায় অনুব্রতকে।