অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন না আশাকর্মী-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সিভিক ভলান্টিয়াররা, চালু হল ‘এডিট’ অপশনও

আগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, যাঁরা সরকারি চাকরি করেন বা আয়কর দেন, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসবেন না। নতুন নির্দেশিকায় সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি খাত থেকে যে কোনও ধরনের নিয়মিত সম্মানী বা ভাতা পেলেও ওই ব্যক্তি আর এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

Advertisement
অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন না আশাকর্মী-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সিভিক ভলান্টিয়াররা, চালু হল ‘এডিট’ অপশনওঅন্নপূর্ণার টাকা পাবেন না আশাকর্মী-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী-সিভিক ভলান্টিয়াররা।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।
  • বুধবার অনুষ্ঠিত একটি পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস) থেকে জানা গিয়েছে, শুধু সরকারি চাকরিজীবী নন, সরকারি খাত থেকে সম্মানী বা পারিশ্রমিক পান, এমন আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক এবং সিভিক ভলান্টিয়াররাও এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। বুধবার অনুষ্ঠিত একটি পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস) থেকে জানা গিয়েছে, শুধু সরকারি চাকরিজীবী নন, সরকারি খাত থেকে সম্মানী বা পারিশ্রমিক পান, এমন আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক এবং সিভিক ভলান্টিয়াররাও এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

আগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, যাঁরা সরকারি চাকরি করেন বা আয়কর দেন, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসবেন না। নতুন নির্দেশিকায় সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি খাত থেকে যে কোনও ধরনের নিয়মিত সম্মানী বা ভাতা পেলেও ওই ব্যক্তি আর এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

এছাড়াও, আবেদনকারীর পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী হলে, কিংবা পরিবারের কেউ আয়করদাতা হলে সংশ্লিষ্ট আবেদন বাতিল হতে পারে। এমনকি পরিবারের কারও জিএসটি নম্বর থাকলে, বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলে বা ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলেও আবেদনকারীর বাড়িতে গিয়ে যাচাই করা হবে। সেই যাচাইয়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিক।

সরকারের দাবি, প্রকৃত দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মহিলাদের হাতে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন পুনরায় যাচাইয়ের তালিকায় থাকা প্রায় ২৮ লক্ষ আবেদনকারী।

নতুন নির্দেশিকায় সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ দেখা দিয়েছে আশাকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মধ্যে। সূত্রের খবর, তাঁদের অনেকের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে গিয়েছিল। এখন সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফে মৌখিকভাবে জানানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।

পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগের সরকারের আমলে তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু এবার বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ আসছে, যাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা এসেছে, তাঁদের সেই টাকা ফেরত দিতে বলা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আশাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ বলে তিনি দাবি করেন।

Advertisement

অন্যদিকে, আটকে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নতুন একটি সুবিধাও চালু করেছে নারী ও শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তর। এবার আবেদনকারীরা প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পোর্টালে নিজেদের আবেদনপত্রের তথ্য 'এডিট' বা সংশোধন করতে পারবেন।

এছাড়া দ্রুত যাচাইয়ের স্বার্থে আধিকারিকের সুপারিশপত্র অনলাইনে আপলোড করা বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি। তবে সিল-সই-সহ সেই নথির হার্ড কপি সংরক্ষণ করতে হবে।

সরকার জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রয়োজনে সিডিপিও, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা, সুপারভাইজার এবং আগ্রহী বিএলওদের কাজে লাগিয়ে দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া এবং বর্তমানে যাচাইয়ের অধীনে থাকা সমস্ত আবেদন ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে অফলাইনে জমা পড়া সমস্ত আবেদন ডিজিটাইজ করার কাজও শেষ করতে হবে।

 

POST A COMMENT
Advertisement