অভিক দে ইতিমধ্যেই অভীক দে-র সার্ভিস কোটা বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ভবন। যদিও এবার ভুয়ো নথি জমা দেওয়া, থ্রেট কালচারের 'কিংপিন' ও অভয়া কাণ্ডের মতো বিষয়গুলির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিকের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন কেড়ে নেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করছে একাধিক সংগঠন। কিন্তু বিষয়টা নিয়ে এখনও কিছুই বলেনি মেডিক্যাল কাউন্সিল।
আসলে ভুয়ো নথি দেখিয়ে বেআইনিভাবে সার্ভিস কোটায় এসএসকেএমের স্নাতকোত্তর সার্জারিতে ভর্তি হয়েছিলেন অভীক বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন সরকার অগাস্ট মাসে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম প্রধানের নেতৃত্বে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই তদন্ত কমিটি জানায়, বেআইনিভাবে সার্ভিস কোটায় এসএসকেএমের স্নাতকোত্তর সার্জারিতে ভর্তি হয়েছিলেন অভীক। অবশেষে সেই কমিটির সুপারিশ মেনে নিয়েছে সরকার। সেই সার্ভিস কোটা বাতিল করা হয়েছে।
আর এমন পরিস্থিতিতে আরও একধাপ এগিয়ে রেজিস্টেশন বাতিল করার পক্ষে সওয়াল করেছে একাধিক সংগঠন। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য শাখার সম্পাদক ডা: শান্তনু সেন বলেন, 'উত্তরবঙ্গ লবির কিংপিন এসপি দাস। যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে বিশ্বের সব থেকে বড় ডাক্তার ছিলেন। যিনি ডিফ্যাক্টো স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। যিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাকে রসাতলে তুলে দিয়ে দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা তৈরি করেছিলেন। তাঁর অন্যতম কারিগর ছিল অভীক দে। ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল, রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, হেলথ ইউনিভার্সিটি, থ্রেট কালচার, অভয়াকাণ্ডে তাকে দেখা যেত। যত রকমের দুর্নীতি হয়, সে সবেতে জড়িত ছিল।'
তিনি জানান, ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই সোচ্চার হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন শাসক দলের মদত ছিল বলে কিছুই হয়নি। পরবর্তী ক্ষেত্রে নতুন সরকার শুভেন্দু অধিকারী ও শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পদক্ষেপ নিয়েছে।
শান্তনু বলেন, 'আমরা মনে করি যে এই ধরনের মিথ্যাচার এবং জালিয়াতি করেছে, বেঙ্গল মেডিক্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী তার রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বাতিল করা উচিত।'
একই মত অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরসের সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, 'একজন চিকিৎসক যদি এই এইভাবে একটা ডকুমেন্ট জাল করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে চান্স পায়, স্বাভাবিকভাবেই সেই চিকিৎসকের নৈতিকতার জায়গাটায় যে স্খলন ঘটে গেছে, এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাই আমার মনে হয় যে রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলেরও বিষয়টা নজর দেওয়া উচিত। এই ধরনের নৈতিক স্খলন যাদের আছে, চিকিৎসক হিসেবে তারা পেশাটাকে চালিয়ে যেতে পারেন কি না, এটা তাদেরও বিবেচনা করা উচিত।'
পাশাপাশি তিনি জানান, অভীকের জাল শংসাপত্র তৈরিতে যারা সাহায্য করেছিল, যারা এতদিন ধরে অভীকদেরকে সুরক্ষা দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেও যেন স্বাস্থ্য দফতর উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন এনএমও-এর দক্ষিণবঙ্গ শাখার সভাপতি ডা: রুদ্রনীল নন্দী। তিনি বলেন, 'আমরা সাধারণত কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে কিছু বলি না। কিন্তু যেহেতু এক্ষেত্রে এমন একজনকে নিয়ে বলা হচ্ছে, যার নামটা সার্বজনিক জীবনে বারবার উচ্চারিত হয়েছে, তাই বলতেই হচ্ছে। এই বিষয়ে সরকারের একটা ইনকোয়ারি কমিটি হয়েছিল। সেই তদন্ত কমিটি যখন দেখেছে যে তার অ্যাডমিশনের প্রসেসটা সম্পূর্ণভাবে ভুল, তখন সরকার সেটা বাতিল করেছে। এতে সরকারকে সাধুবাদ জানাই।'
পাশাপাশি তিনি মেডিক্যাল কাউন্সিলের দিকেও আঙুল তোলেন। তাঁর মতে, মেডিক্যাল কাউন্সিলে অনেক দুর্নীতিবাজ মানুষজন রয়েছে। তাদের জন্যই ভুয়ো ডাক্তার সামনে আসছে। দুর্নীতি হচ্ছে সর্বস্তরে।