Bageshwar Baba Durga Puja Non Veg: '...আমি দূরে থাকি,' দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্কে কী সাফাই বাগেশ্বর বাবার?

কিছুদিন আগেই হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এসেছিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানেই তিনি বাংলার দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন। তারপরই বিতর্ক সৃষ্টি হয় গোটা রাজ্যে। শেষমেষ ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয় খোদ রাজ্য বিজেপির তাবড় নেতাদের। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী।

Advertisement
'...আমি দূরে থাকি,' দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্কে কী সাফাই বাগেশ্বর বাবার?নন ভেজ বিতর্কে কী বললেন বাগেশ্বর বাবা?
হাইলাইটস
  • কিছুদিন আগেই হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এসেছিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী
  • দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন
  • এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী

'না আমি দম্ভে থাকি, না আমি অহঙ্কারে থাকি। শুধু যাঁদের সঙ্গে বিচার মেলে না, তাঁদের থেকে দূরে থাকি।', দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক নিয়ে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ সাফাই দিলেন বাগেশ্বর বাবা। 

কিছুদিন আগেই হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এসেছিলেন বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। সেখানেই তিনি বাংলার দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন। তারপরই বিতর্ক সৃষ্টি হয় গোটা রাজ্যে। শেষমেষ ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয় খোদ রাজ্য বিজেপির তাবড় নেতাদের। 


কী বলেছিলেন?
ওই অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী বলেন, 'কিছু মনে করবেন না, পশ্চিমবঙ্গের একটি বিষয় আমার ভাল লাগে না। এখানে নবরাত্রির সময় দুর্গা প্যান্ডেলের পিছনে বা মঞ্চের নীচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা খাবার তৈরি করা হয়। আমার এটা একেবারেই পছন্দ নয়।'

এখনেই শেষ না করে তাঁর আরও বক্তব্য, 'এই দুর্গাপুজোয় কারা কারা চান আমিষ খাবার বন্ধ করা হোক? দুর্গা প্যান্ডেলের পিছনে বা মঞ্চের নীচে অনেকে আমিষ খাবার খায়। আমার এটা একেবারেই পছন্দ নয়। আমি চাই এদেরকে ধার্মিক নয়, পাখণ্ডী (পাষণ্ড) বলে ডাকা হোক। বাংলার হিন্দুরা জেগে উঠুন।'

আর তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাঙালিকে দুর্গাপুজো শেখানের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে ক্ষোভের মুখে পড়েন বাগেশ্বর বাবা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রশমনে নেমে পড়েন তাবড় বিজেপি নেতার। 

বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, 'উনি একজন সাধু। সেই হিসেবেই কথাটা বলেছেন। পুজোর সঙ্গে আমিষ দেওয়া হোক, তার একটা পরিসর থাকা উচিত। যত মঠ, মন্দির আছে, বড় তীর্থক্ষেত্র আছে, তার মধ্য়ে অনুমতি নেই আমিষ খাওয়ার। খাওয়ার জন্য় আলাদা জায়গা করা উচিত। আমিষ ছাড়া এখানে তো চলবেই না। ফিশ ফ্রাই খাবে...তার জন্য় আলাদা জায়গা করা উচিত। খাওয়ার সঙ্গে পুজোকে মেলানোর দরকার নেই।'

বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন তথাগত রায়ও। তিনি বলেন, 'আমি বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে একজন আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে সম্মান করি। তবে তাঁর দেওয়া পরামর্শ আমি মেনে চলব কি না, সেটা সম্পূর্ণভাবে আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই বৈচিত্র্যই হিন্দুধর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।'

Advertisement


বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'নবমীতে বাঙালি পাঁঠার মাংস খায়। আর অষ্টমিতে খায় লুচি। সেটাই খাবে। আর বাগেশ্বর বাবা অন্য দুনিয়ার মানুষ। ওঁর অনেক ভক্ত আছেন। গোটা দেশে ওঁর ভক্ত আছে। আমিও গিয়েছিলাম ওঁর সঙ্গে দেখা করতে। ওঁর চেহারায় আলাদা গ্লো আছে। নমস্কার করেছি। আমায় ওড়না পরিয়েছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ কী খাবেন কী খাবেন না সেটা বলার অধিকার নেই।'

এমন পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বাগেশ্বর বাবা নিজেই। তিনি দাবি করলেন, যাঁর সঙ্গে তাঁর মতের মিল নেই, তাঁর থেকে তিনি দূরেই থাকেন। 
 

 

POST A COMMENT
Advertisement