। রাজ্যে পালাবদলের পর জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে চাইছে বিজেপি সরকার। 'আইন আগে থেকেই ছিল, আগের সরকার তা কঠোরভাবে লাগু করেনি,' বকর ইদের কোরবানি নিয়ে এমনটাই বললেন মুস্তাফিজুর রহমান রানা। রাজ্যে পালাবদলের পর জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে চাইছে বিজেপি সরকার। তার বিরোধিতায় সরব হয়েছেন CPIM এর মহম্মদ সেলিম ও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য। তবে তার কিছুটা ভিন্ন সুরই শোনা গেল মুর্শিদাবাদে সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুরের গলায়। বললেন, 'এ বার আর আগের মতো করে কোরবানি হবে না। বুঝেশুনে কোরবানি করতে হবে, তবে কোরবানি হবেই।'
ইদের আগে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জেলায় জেলায় বৈঠকও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিএম বিধায়ক। তিনি বলছেন, 'সরকার কোনও নতুন আইন আনেনি। ১৯৫০ সালের আইনই এখন কার্যকর করতে চাইছে।'
মুর্শিদাবাদে সংবাদমাধ্যম ANI কে মুস্তাফিজুর বলেন, 'এই সরকার নতুন কোনও আইন করেনি। আইন আগে থেকেই ছিল। আগের সরকার তা কঠোরভাবে কার্যকর করেনি। এখন সরকার সেটাই করতে চাইছে।' তাঁর দাবি, সব থানাতেই প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। সেই অনুযায়ী নিয়ম মেনেই কোরবানি করতে হবে।
গত ১৩ মে রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ মেনে কড়া নির্দেশিকা লাগু করার কথা বলা হয়। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র পুরসভা বা পঞ্চায়েত এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ অনুমোদন থাকলেই পশু জবাই করা যাবে। পাশাপাশি সেই পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে অথবা কাজের অযোগ্য বা প্রজননের অযোগ্য বলে সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
এ ছাড়াও প্রকাশ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কসাইখানা বা অনুমোদিত জায়গাতেই কোরবানি করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিপিএমের একাংশ। সিপিএম এর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, এই নির্দেশে গবাদি পশুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের সমস্যা হবে। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ নির্ভর করে গবাদি পশু পালন এবং ব্যবসার উপর। ফলে এই ধরনের নির্দেশ কার্যকর হলে তার খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
এ দিকে, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই আইনত নিষিদ্ধ। ফলে রাজ্য সরকার যে নির্দেশিকা জারি করেছে, তা কার্যকর থাকছে।